চুরি করে কোটিপতি!


প্রকাশিত: ০২:২৩ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০১৫

গুদামের কুলি হিসেবেই কর্মজীবন শুরু মাসুদ ওরফে পিচ্চি মাসুদের। কাজের ফাঁকে ফাঁকেই হাতেখড়ি কাভার্ডভ্যান থেকে কাপড় চুরির। এ বিদ্যায় `বিশেষজ্ঞ` পিচ্চি মাসুদ পরে গড়ে তোলে বিশাল বাহিনী। চুরি করেই বনে যায় কোটিপতি! এক সময়ের ভবঘুরে মাসুদ এখন বাড়ি তুলছে ঢাকার বসুন্ধরায়!

দুই সহযোগী, অস্ত্রসহ সোমবার গভীর রাতে নগরীর হালিশহর থানার চৌতলা এলাকায় কাভার্ডভ্যানের ডিপো থেকে গ্রেফতার করা হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কাভার্ডভ্যান থেকে পণ্যচুরির হোতা পিচ্চি মাসুদকে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (পশ্চিম) এসএম তানভির আরাফাত বলেন, গ্রেফতারের সময় মাসুদের কাছ থেকে একটি শাটারগান ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে হালিশহর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে।

ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার হাসানুজ্জামান মোল্যা বলেন, পিচ্চি মাসুদের বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানা, মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে ১২টি মামলা রয়েছে। সে এর আগেও একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল।

হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহ জাহান কবির জানান, পিচ্চি মাসুদকে জিজ্ঞাসাবাদে কাভার্ডভ্যান চুরি ও এর সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে মাসুদের গ্রুপের ১৪ জনকে শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম বন্দরের খালাসি পদে চাকরি করতেন পিচ্চি মাসুদের বাবা মোতাহের হাওলাদার। বাবার টাকায় কোনোমতে চলত তাদের সংসার। লেখাপড়ার দৌড় দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত। প্রথমে মাসুদ কুলির কাজ নেয় মাদারবাড়ি এলাকায়। তবে কাভার্ডভ্যানের মালপত্র চুরি করে পাঁচ বছরের মধ্যেই কুলি থেকে কোটিপতি হয়ে যায় মাসুদ। অন্যের গাড়ি থেকে মালপত্র চুরি করা মাসুদ নিজেই তখন কাভার্ডভ্যানের মালিক হয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, বর্তমানে মাসুদের ঢাকার বসুন্ধরায় ১০ শতক ও হালিশহর তাসফিয়া কমিউনিটি সেন্টারের কাছে প্রায় ২০ শতক জমি রয়েছে। নগরীর ফইল্যাতলী বাজার ও কুমিল্লায় রয়েছে তার দুইটি দ্বিতল ভবন। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্য আনা-নেওয়া করে তার তিনটি কাভার্ডভ্যান।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।