সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বিপদসীমার উপরে


প্রকাশিত: ০৭:০৫ এএম, ৩০ জুলাই ২০১৬

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি কম বাড়লেও সিরাজগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে শনিবার সকালে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে।

অব্যাহতভাবে পানি বৃদ্ধির কারণে সিরাজগঞ্জের পাঁচ উপজেলার চরাঞ্চলের ৩৩টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

বিশেষ করে চরের মানুষের অবস্থা খুবই নাজুক। খাবার ও পানি সংকটে বন্যাকবলিতরা এখন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। সরকারিভাবে যে ত্রাণ দেয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল বলে বানভাসিরা জানিয়েছে।

এদিকে যমুনার পানি বৃদ্ধির পর থেকে সদর, বেলকুচি ও চৌহালীতে শুরু হয়েছে নদীভাঙন। বিশেষ করে চৌহালীতে এখন ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এই উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম, ঘোরজান, পাচিলসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে শুরু হয়েছে মারাত্মক নদী ভাঙন।

ইতোমধ্যে এ সকল গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে। অনেকে তাদের বাড়িঘর রক্ষা করতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। ভাঙনকবলিতরা সব হারিয়ে এখন দিশেহারা।

Sirajganj

তারা অভিযোগ করেছেন, বাড়িঘর না থাকায় খোলা আকাশের নিচে থাকলেও তাদের জন্য কোনো ত্রাণসামগ্রী আসেনি। যে কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে জীবনযাপন করছেন।

চৌহালী উপজেলার ব্রাহ্মণ গ্রামের ভাঙনকবলিত আব্দুস সবুর জানান, তীব্র নদীভাঙনের মুখে তার বাড়িঘর এখন যমুনায় চলে গেছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি এখন খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন। একদিকে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, অপরদিকে কোনো খাবার নেই। এই অবস্থায় তিনি এখন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

একই গ্রামের ইসমাইল হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে বাড়ির আসবাবপত্র রক্ষা করতে পারলেও বাড়িঘর নদীতে চলে গেছে। বর্তমানে তিনি পাশের একটি সরকারি জায়গায় বসবাস করছেন। কাজ না থাকায় কোনো টাকা-পয়সা নেই। যে কারণে পরিবারের সদস্যদের মুখে আহার তুলে দিতে পারছেন না।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ওয়ালি উদ্দিন জানান, সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায় ৩৩টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের কমপক্ষে সাড়ে ১৫ হাজার পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ বন্যাকবলিত। এছাড়া ১ হাজার ৫০০ বাড়িঘর আংশিক ও পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার্তদের জন্য ১৩৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলার পাঁচটি উপজেলার বন্যাকবলিতদের মাঝে ৩৭০ মেট্রিক টন চাল ও ১৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, উপজেলার কয়েকটি গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীতে তীব্র স্রোতের কারণেই এই ভাঙন চলছে। এই মুহূর্তে নদীতে প্রচুর পানি থাকায় ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার উপায় নেই। তবে চৌহালী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এ ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে।

বাদল ভৌমিক/এসএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।