সারিয়াকান্দিতে আতঙ্কে ২৫ হাজার পরিবার


প্রকাশিত: ০২:০৪ পিএম, ৩১ জুলাই ২০১৬

যমুনা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে যমুনা নদীর ডান তীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকিতে পড়েছে। বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় আশ্রয় নেয়া ২৫ হাজার পরিবার আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে মাইকিং করে বাঁধের লোকজনকে সতর্ক করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দীঘলকান্দি গ্রাম থেকে শতাধিক পরিবার তাদের বাড়িঘর নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে।
 
যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে রিভারসাইড এবং কান্ট্রিসাইডে পানির স্তর ৫ ফুট ব্যবধানে রয়েছে। ফলে বাঁধ প্রচণ্ড পানির চাপের মধ্যে রয়েছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে জনপদে জানমালের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া তিন উপজেলার ৪৫ কিলোমিটার বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে লিকেজ, ইঁদুরের গর্ত এবং ফাটল দিয়ে পানি ঢুকছে।

গত শনিবার রাতে শিমুলবাড়ি পয়েন্টে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লোকবল নিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করেন।

এদিকে সোনাতলা, পাকুল্লা, কুতুবপুর, রৌহাদহ, চন্দনবাইশা, দড়িপাড়া, গোসাইবাড়ি  ঢেকুরিয়া, শিমুলবাড়ী, কামালপুর পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে বাঁশের পাইলিং ও বালুর বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, সোনাতলা থেকে সারিয়াকান্দি হয়ে ধুনট উপজেলা পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৫টি স্পটে বন্যার পানি বাঁধ চুয়ে গড়াচ্ছে। এর মধ্যে ধুনটের ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শিমুলবাড়ী স্পট ঝুঁকিপূর্ণ বেশি। এর আগেও ২০০৩ সালে সেখানে বাঁধের পাানি চুয়ে ভাঙনের ফলে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি এবং মানুষ বন্যার পানিতে ভেসে যায়। সেই বন্যায় ধুনট উপজেলা, শেরপুর, গাবতলী, সারিয়াকান্দির একাংশ, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর ও রায়গঞ্জ উপজেলা প্লাবিত হয়।

ধুনটের ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শ্যামল তালুকদার জানান, শিমুলবাড়ীর যে জায়গায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ চুয়ে পানি পশ্চিম পাশে আসছে, সেখানে ২০০৩ সালে একইভাবে পানি চোয়ানোর পর বাঁধ ভেঙে গিয়েছিলো। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমীন জানান, বাঁধের ওপর যেখানে বসতি আছে, সেখানেই বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ বেশি। বাড়িঘর নির্মাণ করায় ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি চুয়ে ভিতরে প্রবেশ করছে। ফলে বাঁধ ক্রমশ দুর্বল ও ঝুঁকির্পূণ হয়ে পড়ছে। তবে আমরা তা চিহ্নিত করে মেরামতের জন্য কাজ করছি।

এদিকে রোববার যমুনা নদীর সারিয়াকান্দি পয়েন্টে পানি কিছুটা কমে বিপদসীমার ৮৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যায় নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি করছে লোকজন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সারওয়ার আলম জানান, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৮৫টি গ্রামের ৮৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুজ্জামান জানান, উপজেলায় ৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।