বাউফলের বিএনপি প্রার্থী

আমি মুক্তিযোদ্ধা, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন রাজাকার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০৯:১০ এএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল আলম তালুকদার বলেছেন, ‘বিএনপি একটা বড় দল বাংলাদেশের এবং আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। চুরি করে, ডাকাতি করে মুক্তিযোদ্ধা হইছি, আমি সেই মুক্তিযোদ্ধা না। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমার এখন প্রতিদ্বন্দ্বী একজন রাজাকার।’

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড হাজিরহাট বন্দর এলাকায় নির্বাচনি অফিস উদ্বোধন ও ধানের শীষের পক্ষে উঠান বৈঠকের সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

শহিদুল আলম তালুকদার আরও বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে একজন রাজাকারের পাল্লা দেওয়া হয়? এটা কোনো আইনে আছে? এই রাজাকাররা ১৯৭১ সালে ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। আমাদের দেশের মা-বোনদের ইজ্জত হরণের জন্য তারা নিয়ে যাইত সেখানে, মনোরঞ্জনের জন্য এবং ৩০ লাখ লোককে শহীদ করেছে এরা। সুতরাং এদেরকে ভোট দেওয়ার কিছু আছে?’ প্রশ্নবোধক এসব বক্তব্যকালে সামনে থাকা নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সমস্বরে বলে ওঠেন, ‘না’।

এসময় শহিদুল আলম বলেন, ‘যদি না থাকে, তাহলে আমি আপনাদের কাছে ভোট চাই। ভোট চাই আমার জন্য না, ভোট চাই আপনাদের জন্য আপনারা শান্তিতে থাকবেন। থাকতে চান না? আপনারা ভালো থাকবেন, আপনারা সুস্থ থাকবেন। ইনশাল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান যদি দেশের প্রেসিডেন্ট হন, তাহলে আপনারা শান্তিতে থাকবেন, একেবারে শান্তিতে থাকবেন।’

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমি যদি এমপি হই, তাহলে কিছু লোকের বাউফল ছাড়া লাগবে সাথে সাথে। আমি এমপি হওয়ার পরের দিন দেখবেন, কিছু মানুষ নাই বাউফল থানায়। কারণ আমি যাদের অপছন্দ করি, সে সমস্ত মানুষ থাকবে না বাউফল থানায়।’

বয়সের ভারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি একজন বয়স্ক মানুষ, আমার এখন যুদ্ধ করতে হচ্ছে একজন নব্য রাজাকারের সঙ্গে, যারা আমার মা-বোনের ইজ্জত নষ্ট করেছে।’

রাজনীতিতে নিজের ত্যাগ ও রাজনৈতিক সম্প্রীতি নিয়ে শহিদুল আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলেও আমি বিদ্রোহ করেছি, আমি ১৯৭৩ সালে ৭ বছর পালাইয়া ছিলাম। কিন্তু আমি এখনো বলছি, আওয়ামী লীগ আমাদের শত্রু না। যারা এ দেশে ভালো মানুষ, সে যে দলই করুক, তারা আমাদের বন্ধু, আমাদের ভাই, আমরা তাদেরকে গ্রহণ করবো। আর যারা শত্রু, যারা খারাপ করবে, তারা দেশ ছাড়বে এটাই ফাইনাল কথা।’

এসময় পটুয়াখালী জেলা ও বাউফল উপজেলা বিএনপির এবং তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আসনটিতে শহিদুল আলম তালুকদারের সঙ্গে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

মাহমুদ হাসান রায়হান/এমএন/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।