ভোলায় ইলিশের আকাল : জেলেদের মানবেতর জীবনযাপন


প্রকাশিত: ০২:৪৫ এএম, ০৪ আগস্ট ২০১৬

ইলিশ জোন হিসেবে খ্যাত দ্বীপ জেলা ভোলায় ভরা মৌসুমেও ইলিশের তীব্র আকাল চলছে। জেলার শাহবাজপুর চ্যানেলসহ মেঘনা তেঁতুলিয়া নদীতে রাত দিন জাল ফেলেও দু একটি ছাড়া ঝাকের ইলিশের দেখা মিলছে না। ফলে অভাব অনটনে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে ২ লাখ জেলে পরিবার।

এদিকে, নদীতে ইলিশ না থাকায় বছরে এক লাখ মেট্রিক টন ইলিশ আহরণের  লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম।

তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই মৌসুমে ইলিশ এ অঞ্চলে আসছে না। তবে অসময়ে ইলিশ ধরা পড়তে পারে বলেও আশার কথা জানান তিনি।

এদিকে, বছরের ৮ মাস জেলেদের জন্য ভিজিএফ প্রকল্প এ বছরের জুন মাসে শেষ হয়ে গেছে। ওই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতেও প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভাবী জেলেদের পুনর্বাসনের দাবির বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা।

ভোলার ইলিশা, ধনিয়া, রাজাপুর, ভোলার খাল, দৌলতখানের চৌকিঘাট, তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর, স্লুইসগেইট, চরফ্যাশনের বেতুয়া, শামরাজ ঘুরে দেখা যায়, সারাদিন নদী চষে নৌকা প্রতি মিলছে না ৩/৪টি ইলিশ। ওই ইলিশ বিক্রি করে টাকা মেলে ৩ হাজার। নৌকার জ্বালানি খরচ, প্রতিদিনের ব্যয় মিটিয়ে ভাগিদার ৮/১০ জনের একজন পান ১০০ থেকে ২০০ টাকা। ওই টাকায় ৬/৭ জনের সংসার চলে না। অনাহারে অর্ধাহারে থাকতে হচ্ছে এদের।

ইলিশার চড়ার মাথার আড়তদার শামিম জানান, তার আড়তে দাদনভুক্ত জেলে রয়েছে ৬০ জন। জেলেরা প্রতিদিন খালি হাতে নদী থেকে ফিরছে। ফলে দাদনের ১০/১৫ লাখ টাকা এবার ফেরত পাবার সম্ভাবনা নেই।

ভোলার ৭০টি মাছ ঘাটে মাছ ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের পরিমাণ বছরে ২০০ কোটি টাকা। বছরে আয় করার কথা ৪০০ কোটি টাকা। ওই হিসেবে এবার মিলছে না।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, ভোলায়  ইলিশ উৎপাদনের ( আহরণের) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ লাখ ১ হাজার মেট্রিক টন। ৪০০ টাকা কেজি হিসেবে আয় হবে ৪০০ কোটি টাকা। গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯০ হাজার ৪৩৪ মেট্রিক টন।  

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ হালদার জানান, ইলিশের এখন আর ভরা মৌসুম নেই। এখন যে কোনো সময় হঠাৎ করে বড় আকারের প্রচুর ইলিশ ধরা পড়তে পারে এমন আশা তারা করছেন।

তবে জেলেরা জানান, ভোলার শাহবাজপুর চ্যানেল ইলিশ বিচরণের জন্য খ্যাত। ওই চ্যানেলের মুখে কিছু প্রভাবশালী মাছদস্যু নিষিদ্ধ পাই জাল, বেড় জাল, বিহিন্দি জাল, মশারী জাল বসিয়ে ৩/৪ ইঞ্চির ইলিশ প্রজাতি বিনষ্ট করছে। এটা ওপেন সিক্রিট। প্রশাসন জেনেও চিহ্নিত ওই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। জেলায় ওই চক্রের সংখ্যা মাত্র ২০/২৫ জন।

অথচ এরা ধ্বংস করে বেড়াচ্ছে কোটি কোটি টাকার ইলিশ প্রজাতি। বছরে ডিম ছাড়ার সময় এরা মা ইলিশও ধ্বংস করে। আবার জানুয়ারি-ফেরুয়ারি মাসে এরাই জাটকা বিনষ্ট করছে। ইলিশ প্রজাতি এভাবেই বিনষ্ট হওয়ায় এখন ইলিশ সংকট চলছে।

মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, জেলায় নিবন্ধনকৃত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ১৩০ জন। এদের মধ্যে রয়েছে ভোলা সদরে ২০ হাজার ৭৮০ জন, দৌলতখানে ১৮ হাজার ৯৭১ জন, বোরহানউদ্দিনে ১৮ হাজার ৮৯৮ জন, তজুমদ্দিনে ১৩ হাজার ৩৬৯ জন, লালমোহনে ১৩ হাজার ১০৬ জন, চরফ্যাশনে ২১ হাজার ১১০ জন, মনপুরায় ১১ হাজার ৯৬ জন। এখনো নিবন্ধন হয়নি এমন জেলের সংখ্যা রয়েছে ৫০ হাজার।

স্থানীয়রা জানান, ১ লাখ ৭৩ হাজার জেলে ভোলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও সাগর মোহনায় সরাসরি মাছ ধরা পেশায় জড়িত। মাছ বিক্রির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন আরো ৫০ হাজার ।

এসএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।