গাছ ছাড়া থাকতে পারেন না তিনি
গাছপাগল ছিল আমার স্বামী। আমাকে মোটেও সময় দিত না। সব সময় বাড়ির ছাদে গাছ পরিচর্যায় সময় কাটাতো। এসব কাণ্ড দেখে মাঝে মধ্যেই ঝগড়া লাগতো তার সঙ্গে। এরপর তার চাকরি হয়ে যায়। চাকরি নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে গাছগুলোর আর পরিচর্যা করতে পারছিলো না। একদিন ছাদে উঠে দেখি পানির অভাবে অনেক গাছের গোড়া শুকিয়ে গেছে, অনেক গাছ মরেও গেছে। মরা গাছগুলো দেখে সেদিন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। এরপর থেকে আমিই গাছগুলোর পরিচর্যা শুরু। এখন তার (স্বামী) মতো আমিও আর গাছ ছাড়া থাকতে পারি না।
গাছের প্রতি ভালোবাসার বর্ণনা এভাবেই দিচ্ছিলেন সাতক্ষীরা বিসিক শিল্প নগরীর কর্মকর্তা ফারুকী নাজনীন।
এখনো নিয়মিত বাড়ির ছাদে গাছ রোপণ করছেন তিনি। এ ব্যাপারে তিনি বললেন, গাছের ক্ষুধা আমার মেটে না, তাই গাছ লাগাই। অফিস শেষে গাছের সঙ্গেই সময় কাটাই। বললেন, গাছের মধ্যে গেলে আমি সুস্থ থাকি, ভালো থাকি।
ফারুকী নাজনীনের সংগ্রহে বর্তমানে ৪৫০ প্রজাতির গাছ রয়েছে। এর মধ্যে থাইল্যান্ড, ব্যাংকক, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, প্যারিস, লন্ডন, ভারত বর্ষসহ দেশীয় জাতের অনেক গাছ রয়েছে।
তিনি বলেন, আমার বাগানে বাইরের (বিদেশি) গাছ আছে ৪০ ভাগ আর দেশি প্রজাতির ৬০ ভাগ। গাছগুলোর মধ্যে হাইডেনজে, এনথুরিয়াম, ইউফোরবিয়া, পরকি, ক্যাকটাস, সাকুলেন্ড, অরকিড, অটার লিলি, ড্রাগন ডিসেট, ট্যাঙ্ক পল ইত্যাদি। সর্বনিন্ম ১০ টাকা থেকে শুরু করে চার লাখ টাকা মূল্যের গাছ রয়েছে আমার বাগানে।
ফারুকী নাজনীন জানান, বিয়ের পর দেখি স্বামী আজিজুর রহমান বাড়ির ছাদে বেশি বেশি সময় কাটায়। ছাদে টবে লাগানো রয়েছে তার শতাধিক গাছ। এসবের পেছনে সময় দেয়ায় স্বামীর সঙ্গে ঝগড়াও হতো। স্বামী ডাক্তার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ২০০২ সালে হঠাৎ তার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। আর সময় দিতে পারতেন না তিনি।

বাড়ির ছাদে বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০০৭ সালে ফারুকী নাজনীন পেয়েছেন জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতিও।
বাগান পরিচর্যায় নিয়োজিত একজন জানান, ম্যাডাম খুব গাছ প্রিয় মানুষ। গাছের উপর একটু অনিয়ম হলেই তিনি সহ্য করতে পারেন না। গাছ যে মানুষের বন্ধু হয় এখানে আসার পরে ম্যাডামের কাছ থেকেই শিখেছি।
বৃক্ষপ্রেমী নারীর স্বামী ডাক্তার আজিজুর রহমান বলেন, এক সময় আমি বৃক্ষ রোপণ করতাম। এখন আর সময় পাই না। আমার কাজটি আমার স্ত্রী করছে। জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতিও পেয়েছে। ভালো লাগে যে আমার গাছগুলো এখনো বেঁচে আছে। এখন আমার থেকে গাছের সঙ্গে তার বেশি সময় কাটে।
এ ব্যাপারে বন কর্মকর্তা তোজাম্মেল হক জাগো নিউজকে বলেন, বিরল প্রজাতির এসব গাছ সংরক্ষণ করা খুব কঠিন। এতে গাছের প্রতি মূল্যবোধ বাড়বে ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে।
ফারুকী নাজনীন সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গাছ লাগান তবেই সুস্থ ও সুন্দর থাকতে পারবেন।
এমএএস/এবিএস