এখন আমার কি হবে?


প্রকাশিত: ০৩:০৩ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬

‘শাহ আলম তোকে ঈদে বাড়ি আসতে বলেছিলাম, তুই আসলিনে। বললি, অফিসের কাজ রয়েছে। এখন আমার কি হবে। কে দেখবে। কে রোজ ফোন করে খোঁজ নেবে। তোর আগে আল্লাহ আমায় নিল না কেন’। এভাবে কথাগুলো বলছিলেন হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে নিহত শেখ শাহ আলমের (২৯) মা লতিফা বেগম।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া ইনানি রেজু ব্রিজ সংলগ্ন বিচের মংগাইয়ার টেক এলাকায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে নিহত হন শেখ শাহ আলম। তিনি সাতক্ষীরা জেলার চাম্পাফুল ইউপির রাজাপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শেখ শামছুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় আরো চার আরোহী আহত হয়েছেন। তাদেরকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
 
নিহতের চাচাতো ভাই শেখ আনিছুর রহমান জানান, তার মেজো চাচা শেখ শামছুর রহমানের দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে শাহ আলম সবার ছোট। তিনি ঢাকা হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। চার বছর আগে একটি বিজ্ঞাপনি সংস্থায় চাকরি নেন। স্ত্রীসহ ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকায় থাকতেন শেখ শাহ আলম।

২০১৫ সালে তিনি বিয়ে করেন। বর্তমানে তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। সর্বশেষ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ৫ জুলাই তিনি গ্রামের বাড়ি তেঁতুলিয়া আসেন। স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ও অফিসের কাজ থাকায় তিনি ঈদুল আজহায় বাড়িতে আসতে পারেননি।

শেখ আনিছুর রহমান আরো জানান, শাহ আলম সড়ক পথে বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে যান। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে বিজ্ঞাপনি কাজে মেঘনা অ্যাভিয়েশনের একটি হেলিকপ্টারযোগে কক্সবাজারের উথিয়ায় যায়।

সাকিবকে নামিয়ে দিয়ে শাহ আলম ও চালকসহ পাঁচজন ওই হেলিকপ্টারে ঢাকায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে উখিয়া উপজেলার ইনানি সৈকত হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে শাহ আলম নিহত হন।

স্থানীয় চাম্পাফুল ইউপির মোজ্জামেল হোসেন জানান, শাহ আলমের মৃত্যুর খবব বাড়িতে পৌঁছানো মাত্রই কান্নার রোল পড়ে যায়। গ্রামের অনেক মানুষ নিহতের বাড়িতে জড়ো হয়। তার বাবা-মার কান্না কিছুতেই থামছে না।

আকরামুল ইসলাম/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।