ময়নাতদন্ত শেষে বন্যহাতির মরদেহ মাটিচাপা


প্রকাশিত: ০৯:০৯ এএম, ০২ অক্টোবর ২০১৬

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের পানবর গ্রামের কৃষক জবান আলীর ধানক্ষেত থেকে উদ্ধারকৃত বন্যহাতির মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ফৌজিয়া কাদের এ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। এসময় তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাতিটির হৃৎপিণ্ড ও পাকস্থলিসহ শরীরের কিছু অংশ সংরক্ষণ করেন। এর আগে বনবিভাগ সংরক্ষণের জন্য হাতির দাঁতটি কেটে নিয়ে যায়।

জেলা বন্যপ্রাণি এবং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে হাতির মরদেহটি ঘটনাস্থলের কাছেই মাটিচাপা দেওয়ার হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বন্যহাতি মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় ঝিনাইগাতী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
 
বন বিভাগের ঝিনাইগাতীর তাওয়াকুচা বিট কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম জানান, মৃত হাতিটির বয়স আনুমানিক ৯/১০ বছর হবে। এটি দাঁতাল পুরুষ হাতি, এর উচ্চতা ১২ ফুট এবং লেজসহ লম্বায় ১৩ ফুট। হাতিটির মৃত্যুর সঠিক কারণ জানাতে না পারলেও ময়না তদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয়রা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে ঝিনাইগাতীর কাংশা ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে পাহাড় থেকে নেমে আসা ৩০/৩৫ টির মতো একদল বন্যহাতি তাণ্ডব চালাতে থাকে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তিনদিনের ব্যবধানে কাংশা ইউনিয়নের ওই এলাকায় নারীসহ দুইজন বন্যহাতির আক্রমণে নিহত হয়েছেন।

প্রতিরাতেই বন্যহাতির দল লোকালয়ে প্রবেশ করে ধানের ক্ষেত খেয়ে সাবাড় করাসহ ঘরবাড়িতে হানা দিয়ে নানা ক্ষয়ক্ষতি করছে এবং ভোরের আলো ফোটার আগেই বন্যহাতির দল ফের পাহাড়ে চলে যাচ্ছে। শনিবার রাতেও বন্যহাতির দল লোকালয়ে হানা দিয়ে ক্ষেতের ধান খাওয়াসহ ৮টি বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

এসময় হাতি তাড়াতে লোকজন মশাল জ্বালিয়ে, টিন পিটিয়ে ও জেনারেটরের আলো জ্বালিয়ে হাতির দলকে তাড়াতে না পারায় শনিবার রাতে স্থানীয় অদিবাসীরা জেনারেটরে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হাতি তাড়াতে চেষ্টা করে। সেই জেনারেটরের বৈদ্যুতিক শকেই হাতিটি মারা যেতে পারে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

রাতভর হাতির তাণ্ডবে ওই এলাকার লোকজন ঘরবাড়ী ছেড়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে বাধ্য হন।

স্থানীয়রা বলছেন, যেখানে হাতিটি মারা গেছে তার আশপাশেই বন্যহাতির দল অবস্থান করায় তাদের মাঝে এখন হাতি আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, গত এক বছরে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী সীমান্তে এনিয়ে চারটি বন্যহাতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো। একই সময়ে এ দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামে বন্যহাতির আক্রমণে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

হাকিম বাবুল/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।