বন্যায় ৬ গ্রামের ২ হাজার মানুষ গৃহহীন


প্রকাশিত: ০১:১০ পিএম, ০৫ অক্টোবর ২০১৬

গত কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীতে বন্যার পানি কমতে থাকায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতুনি ইউনিয়নের ৬টি গ্রামে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে কম পক্ষে ৬টি গ্রাম বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পাশাপাশি এসব গ্রামের অন্তত ২ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো হচ্ছে, সোনাতুনি, মাকড়া, বারপাখিয়া, বানতিয়ার, বড়চানতারা, ছোটচানতারা। এসব গ্রামের ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি ও ২ শতাধিক ইরি স্কিমের ২ হাজার বিঘা জমি ইতোমধ্যেই যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের তাণ্ডবে বিলীন হয়ে গেছে।

বানতিয়ার গ্রামের আবুল কাশেম, শিরিন আক্তার, কুরমান আলী, মালেকা খাতুন, আনোয়ারা বেগম, ছোটচানতারা গ্রামের লিপি খাতুন, লালবানু, কুলছুম বেগম জানান, এবছর বন্যার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙনের তাণ্ডবও ভয়াবহ রূপ নেয়। চোখের সামনে বাড়িঘর, ভিটামাটি, জমিজমাসহ সব কিছু মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। এতে এসব এলাকার অসহায় মানুষগুলো সব খুইয়ে সর্বশান্ত হয়ে গেছে।

এখন তাদের জীবন-জীবিকা চালানোর মকো কোন ব্যবস্থা না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যমুনা নদী থেকে মৎস্য আহরণ ও চরের কাশিয়া-ছন সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে যে সামান্য অর্থ জোটে তা দিয়ে তাদের এক বেলার আহারও জোটে না। এ অবস্থায় তাদের সংসারে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।

SIRAJGONJ

এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, সোনাতুনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে গত ২ মাসের মধ্যেও টিআর, জিআর, ভিজিএফের চাল, নগদ টাকা বা খাদ্য সামগ্রীর কোন কিছুই তারা হাতে পায়নি। সরকারি বরাদ্দ যা এসেছে তার অধিকাংশই চেয়ারম্যান-মেম্বাররা আত্মসাৎ করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সোনাতুনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ফজলুর ভাই জানান, চেয়ারম্যান অসুস্থ। তার হয়ে তিনি কথা বলবেন।

তিনি বলেন, বন্যা ও ভাঙণে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৪ দফায় ১৭-১৮ মেট্রিক টন জিআরের চাল বিতরণ করা হয়েছে। সেখানে কোন অনিয়ম-দুর্নীতি করা হয়নি।

শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিন্দার আলী বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।