কোটালীপাড়ায় ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ


প্রকাশিত: ০৮:৫৪ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৬

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় উৎসবমুখোর পরিবেশে শুরু হয়েছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ নৌকাবাইচ। এটি ঐতিহ্যবাহী বিল বাঘিয়ার নৌকাবাইচ হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরের মতো এবারো নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে লাখো মানুষের মিলন মেলা বসেছে কালিগঞ্জে।

রোববার থেকে নান্দনিক এ নৌকাবইচ বিপুল আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে  শুরু হয়েছে। চলবে আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত। প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যে লালিত দু’শ বছরের আকর্ষণীয় এ নৌকাবাইচে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর , পিরোজপুর, নড়াইল ও বরিশাল জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের দুই শতাধিক সরেঙ্গা, ছিপ, কোষা, চিলাকাটা ও জয়নগর বাচারী নৌকা অংশ নেয়।
      
আবহমান গ্রাম বাংলার অতি প্রাচীন কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও নিজস্বতা ধরে রাখতে লাখো প্রাণের আনন্দ উচ্ছালতায় উপজেলার  বাবুর খালে কালিগঞ্জ বাজার থেকে খেজুরবাড়ি পর্যন্ত ২ কি.মি. এলাকা জুড়ে নৌকাবাইচ ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। বাড়তি আকর্ষণ ছিল নৌকায় নৌকায় মেলা। দুপুর থেকে নানা বর্ণে ও বিচিত্র সাজে সজ্জিত দৃষ্টি নন্দন এ নৌকাবাইচ শুরু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে নৌকাবাইচের একের পর এক ছোপ।
 
ঠিকারী ও কাঁশির বাদ্যের তালে জারি সারি গানে নেচে গেয়ে হেঁইও হেঁইও রবে আর বৈঠার ছলাৎ- ছলাৎ শব্দে এক অনবদ্য আবহ সৃষ্টি হয়। দু`কূলে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের হৃদয়ে জাগে দোলা। মাল্লাদের সঙ্গে সমবেত হন অগনিত সমর্থক ও দর্শক। তারা উৎসাহ দেন বাইচের নৌকার মাল্লাদের। নদীর দু’পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের করতালী ও হর্ষধ্বনিতে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। গোটা এলাকায় সঞ্চারিত হয় উৎসবের আমেজ।

কলাবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাইকেল ওঝা বলেন, জলাভূমি বেষ্টিত কোটালীপাড়ার জীবন জীবিকার প্রধান অবলম্বন ছিল নৌকা। প্রায় দু’শ বছর আগে লক্ষ্মীপূজার সময় নৌকা নিয়ে এলাকার মানুষ জমিাদার শিবরাম চৌধুরীর বাড়িতে যেতেন।  পূজা দেখে ফেরার সময় নৌকায় নৌকায় পাল্লা হতো। নৌকার মাধ্যমে চিত্তবিনোদনের চিন্তা থেকে নৌকাবাইচের প্রচলন শুরু হয়। সেই থেকে লক্ষ্মীপূজার পরের দিন থেকে এ অঞ্চলের নৌকাবাইচ হয়ে আসছে স্বতঃস্ফুর্তভাবে।

kotalipara

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান হাজরা বলেন, ছোটবেলা থেকে এ নৌকাবাইচ দেখে আসছি। এখানে কখনোই কাউকে বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে বাইচের আয়োজন করতে হয়না।

নৌকাবাইচ দেখতে আসা নজরুল ইসলাম হাজরা মন্নু ও অপুর্ব দাস রুদ্র বলেন, জীবনে অনেক স্থানের নৌকাবাইচ দেখেছি। কিন্তু এখানকার মতো এত বড় ও রাজকীয় ঢংয়ের নৌকাবাইচ আমি দেখিনি। আমার দেখা নৌকাবাইচগুলোর মধ্যে এটা সেরা ও সবচেয়ে বড়।

উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, সারাদেশে নৌকাবাইচ যখন বিলুপ্তির পথে তখন কালীগঞ্জের লোকজন নৌকাবাইচ টিকিয়ে রেখেছে। নদীমাতৃক এ অঞ্চলের ২শ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাঘিয়ার নৌকাবাইচ টিকিয়ে রাখতে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে।

হুমায়ূন কবীর/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।