মেশিন নষ্ট, অস্ত্রোপচার-আল্ট্রাসনোগ্রাফি বন্ধ
দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আধুনিক সদর হাসপাতলের অ্যানেসথেসিয়া ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে হাসপাতালে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার হচ্ছে না, ছোট-খাটো অস্ত্রোপচার হলেও সেটিতে ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিনটি নষ্ট হওয়ার কারণে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক থেকে বেশি টাকায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ ও অসহায় রোগীরা।
সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের কুমারশীল মোড় এলাকায় প্রায় ২ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় জেলা সদর হাসপাতাল। পরে ১৯৯৫ সালে হাসপাতালটি ১শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তরিত হয়।
সর্বশেষ ২০১০ সালের ১২ মে ২৫০ শয্যায় উন্নীত আধুনিক এ সদর হাসপাতালের উদ্বোধন করেন তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাসপাতালটিতে বর্তমানে জরুরি বিভাগ ছাড়াও অর্থপেডিকস ওয়ার্ড, গাইনি ও প্রসূতি ওয়ার্ড, শিশু ওয়ার্ড, মেডিসিন ওয়ার্ড, সার্জারি ওয়ার্ড, ডায়রিয়া ওয়ার্ড, পেয়িং ওয়ার্ড, চক্ষু ওয়ার্ডসহ বেশ কয়েকটি বিভাগ চালু রয়েছে।
তবে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালটির অ্যানেসথেসিয়া মেশিন ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। এর ফলে হাসপাতালে বড় ধরনের কোনো অস্ত্রোপচারই করা যাচ্ছে না।
পাশাপাশি আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিনটিও নষ্ট থাকার কারণে রোগীরা হাসপাতালে এসে ফিরে যাচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়েই রোগীরা বেসরকারি হাসপাতাল থেকে অস্ত্রোপচার ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাচ্ছেন। এতে করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হতদরিদ্ররা।
সদর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রাম থেকে আসা বৃদ্ধা রোকেয়া বেগম জাগো নিউজকে জানান, আমার হাতে টিউমার অপারেশন (অস্ত্রোপচার) করাতে সদর হাসপাতালে এসেছি।
আমার স্বামী-সন্তান নেই, ভেবেছিলাম কম খরচে সদর হাসপাতালে অপারেশন করিয়ে ফেলবো, কিন্তু হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া মেশিন নষ্ট হওয়ার কারণে অপেরেশন করা যাচ্ছে না। প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে অপারেশন করানোর মতো সামর্থ্য আমার নেই।
আরেক হতদরিদ্র আক্কাস মিয়া জাগো নিউজকে জানান, পেটে সমস্যার জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাফি করতে এসেছি সদর হাসপাতালে। কিন্তু এসে দেখি আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নষ্ট। তই বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করতে হবে।
এদিকে, দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অ্যানেসথেসিয়া ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিনটি নষ্ট হয়ে পড়ে থাকার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ ও হতদরিদ্র রোগীরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, অ্যানেসথেসিয়া মেশিন ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছে। কিন্তু ঢাকা থেকে কারিগরি টিম আসবে-আসছি বলেই দিন পার করছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শওকত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সদর হাসপাতালের সেবা গ্রহণ করে থাকেন। অ্যনেসথেসিয়া মেশিনটি নষ্ট হওয়ার কারণে স্বল্প পরিসরে ছোট-খাটো অস্ত্রোপচারগুলো ঝুঁকি নিয়েই করা হচ্ছে।
এছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নষ্ট থাকার কারণেও পরীক্ষা করা বন্ধ রয়েছে। এর ফলে অনেক রোগী হাসপাতালে এসে ফিরে যাচ্ছেন। আমরা চিঠির মাধ্যমে মেশিন দুটি নষ্ট হওয়ার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
কারিগরি টিম এসে মেশিন দুটি মেরামত করবেন বলে আসছি-আসবো করে দিন পার করছেন। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, চলতি মাসেই হয়তো মেশিন দুটি মেরামত করে রোগীদের সেবা দেয়া যাবে।
তবে শুধু আশার বাণী নয় দ্রুত সময়ের মধ্যে অ্যানেসথেসিয়া ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন মেরামত করে সাধারণ ও হতদরিদ্র রোগীদের দুর্ভোগ কমানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এসএস/পিআর