ওবায়দুল কাদেরকে গণসংবর্ধনা : নোয়াখালীতে সাজ সাজ রব
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রথম নোয়াখালীতে আসছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শনিবার বিকেলে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে গণসংবর্ধনা ও ঐতিহাসিক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি থাকবেন তিনি।
নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সুবর্নচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এ এইচ খায়রুল আনাম চৌধুরী সেলিমের সভাপতিত্বে এ গণসংবর্ধনা ও ঐতিহাসিক জনসভা হবে।
ওবায়দুল কাদেরের এ আগমনকে ঘিরে গোঠা নোয়াখালীতে এখন সাজ সাজ রব। অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার, পোস্টার, তোরণ ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নোয়াখালী জেলার অলিগলি ও সড়ক। জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কের দুপাশে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। দিনে রাতে চলছে মাইকিং। 
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর নোয়াখালীতে একমাত্র জননেতা মরহুম আব্দুল মালেক উকিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর নোয়াখালীর আর কেউ সে পদে যেতে পারেননি। দীর্ঘ ৩৮ বছর পর গত ২২ অক্টোবর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। এজন্য দলীয় নেতা কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উচ্ছাসিত।
এদিকে, স্মরণকালের এ গণসংবর্ধনা ও জনসভা সফল করতে গত এক মাস ধরে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের সকল নেতাসহ ৯ উপজেলা ও ৮ পৌরসভার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জেলা থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে দফায় দফায় বৈঠক করেছে নেতারা। সুন্দর সুশৃঙ্খলভাবে এ জনসভাটি সফল করতে করা হয়েছে বেশ কয়েকটি কমিটি।
নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এ কে এম সামছুদ্দিন জেহান জাগো নিউজকে জানান, সারা দেশের মানুষের ন্যায় নোয়াখালীর সর্বস্তুরের মানুষ আজ খুব খুশী। ওবায়দুল কাদেরকে সবাই ভালোবাসে। আর ভালোবাসার টানে নেতা-কর্মীরা এত গেট, ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন লাগিয়েছে।
চৌমুহনী পৌরসভার মেয়র ও চৌমুহনী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সাল জাগো নিউজকে জানান, ওবায়দুল কাদের আজ কেবল নোয়াখালীর নেতা নন, সারা দেশের নেতা। আর এ নেতাকে বরণ করে নিতে আমরা কোনো কিছুর কমতি রাখিনি। 
নোয়াখালীর প্রবীন রাজনীতিবিদ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক ডা. এবি এম জাফর উল্যাহ জানান, ওবায়দুল কাদের এখন সারা দেশের নেতা। তার কাছে জেলার উন্নয়নে আমাদের কোনো চাওয়া পাওয়া নাই। বিগত সময়ে তিনি অনেকে উন্নয়ন করেছেন, সামনে আরো উন্নয়ন করবেন।
তার কাছে এখন একটাই চাওয়া, নেত্রী তাকে দলের গুরু দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি দলকে আরো শক্তিশালি করার জন্য পরামর্শ দিবেন। আমারা যেন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালি করে আগামীতে আবারো দেশে সরকার গঠন করতে পারি।
নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী জনান, এ গণসংবর্ধনা ঘিরে নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নতুন উদ্দীপনায় নেমেছে। কেন্দ্রীয় কমিটির জননেত্রী ও প্রেসিডিয়াম মেম্বার ছাড়া বাকি সব নেতারা গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
মিজানুর রহমান/এফএ/পিআর