১১ টাকার জন্য শিশুকে খুঁটিতে বেঁধে মারধর
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে হযরত সৈয়দ শাহ মিরানের (রা.) দরবার শরীফের ১১ টাকা চুরির অভিযোগে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র মো. শাওনকে (৮) খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়েছে। আর গত দুদিন ধরে শিশু নির্যাতনের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্থানীয়ভাবে ভাইরাল হয়ে গেছে।
দরগা শরিফের (মাজার) লোকজন চুরির অভিযোগে নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কাউকে শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত আটক করতে পারেনি। তবে শাওনের মা স্বপ্না ও বাবা মো. সেলিম পুলিশের কাছে শুক্রবার রাতে লিখিতভাবে জানিয়েছেন তাদের ছেলেকে কেউ মারধর করেনি। এ কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
নির্যাতনের শিকার শাওন বিঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র এবং ওই এলাকার দিনমজুর মো. সেলিমের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ওই মাজারের দানবাক্সের ওপর থাকা (কারও দান করা ১১ টাকা) টাকা পকেটে ঢুকানোর সময় গত বুধবার বিকেলে মাজার কমিটির লোকজন শাওনকে আটক করে। পরে ওই ১১ টাকার জন্য তার গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এসময় মাজারের সামনের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে দুই হাত বেঁধে মারধর করা হয়।
উৎসুক জনতা থেমে থেমে তাকে চড়-থাপ্পড় দেয়। এসময় শাওন কান্নাকাটি করে। শিশুটি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক মোবাইল ফোনে কয়েকটি ছবি ধারণ করে।
মানবাধিকার কর্মী এম এ রহিম বলেন, চুরির অভিযোগে শিশুকে বেঁধে মারধর করা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এটি শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বিপর্যয় দেখা দেয়। এ বিষয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনারাবৃত্তি হবে না।
জানতে চাইলে দরবার শরিফ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোজাম্মেল হক মিলন বলেন, ঘটনাটি অমানবিক। তবে মাজার পরিচালনা কমিটির কেউ তাকে মারেনি, তারা বেঁধে রেখেছে বলে আমাকে জানিয়েছে। আমি সেখানে ছিলাম না।
এ ব্যাপারে রামগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোতা মিয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে এলাকাবাসীসহ শিশুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়েছে।
তবে এ বিষেয়ে শিশুর পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। শিশুকে মারধর করা হয়নি বলে তারা আমাকে লিখিত দিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে।
কাজল কায়েস/এআরএ/আরআইপি