দিনাজপুরের তিন উপজেলা মুক্ত হয় এদিনে
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, বোচাগঞ্জ ও বিরামপুর উপজেলা মুক্ত দিবস আজ ৬ ডিসেম্বর।
১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে বিজয়ের এ মাসে ৬ ডিসেম্বর দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, বোচাগঞ্জ ও বিরামপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাক বাহিনীর সাথে লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে এ তিনটি উপজেলা শত্রু মুক্ত করেছিল।
সেই থেকে এ দিনটিকে এ তিনটি উপজেলা মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে তিনটি উপজেলায় পৃথক আলোচনা সভা ও র্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
বীরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার প্রভাষক কালী পদ রায় জানান, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বীরগঞ্জ উপজেলা পাকহানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করা হয়েছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্মুখ লড়াইয়ে টিকতে না পেরে পাকহানাদার বাহিনী এবং তার দোসরেরা বীরগঞ্জ এলাকা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী সৈয়দপুর তৎকালীন অবাঙ্গালীদের ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছিল।
বোচাগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. জাফর উল্লাহ জানান, আজ ৬ ডিসেম্বর দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা ও পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখ যুদ্ধে বিতাড়িত করেছিল।
দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষ্যে বোচাগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ মাঠে বোচাগঞ্জ মুক্ত দিবস উপলক্ষে এক সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বিরামপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লুৎফর রহমান জানান, ভারতের কালিয়াগঞ্জ তরঙ্গপুর ক্যাম্পে বিরামপুর উপজেলার ২৮০জন মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ নেন। পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে ৯ মাস যুদ্ধ করে ২০জন শহীদ ও ১৫ জন গুরুতর আহত হন। অবশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে পাকবাহিনীকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর। মুক্ত করে বিরামপুরকে।
দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে ৬ ডিসেম্বর বিরামপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বিরামপুর প্রেসক্লাব মুক্ত আলোচনার আয়োজন করেছে। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ও শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
এমদাদুল হক মিলন/আরএআর/জেআই