বিজয়ের দু’দিন পর হানাদার মুক্ত হয় পাবনা


প্রকাশিত: ১০:২০ এএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মানুষ যখন বিজয়ের উল্লাসে মেতে উঠেছে তখনও পাবনা শহরে চলছিল পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ। বিজয়ের দু’দিন পর ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর পাক হানাদার মুক্ত হয় পাবনা সদর উপজেলা। দীর্ঘ নয় মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাবনায় প্রায় পাঁচ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ শহীদ হন। জেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে ১৯৯৮ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুর্জয় পাবনা নামে একটি স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হয়।

১৮ ডিসেম্বর পাবনা হানাদার মুক্ত হওয়ার আগে ১৪ ডিসেম্বর দুপুর থেকে পাক-বাহিনীর সঙ্গে মুক্তি বাহিনীর শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। ১৪ ডিসেম্বর দুপুর ২টা থেকে মিত্র বাহিনী পাবনা শহরে মটার সেল ও বিমান হামলা চালাতে থাকে। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তি বাহিনী চতুর্দিক থেকে পাবনা শহর ঘিরে ফেলে আক্রমণ চালায় পাক-হানাদার বাহিনীর উপর। উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয় যুদ্ধ।

১৮ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর চতুর্মুখী আক্রমণে পাক সেনারা কোণঠাসা হয়ে পড়ে এবং পাবনা ছেড়ে দলে দলে পালিয়ে যায়। এ সংবাদে নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মানুষ ঘর ছেড়ে বাড়ির বাইরে এসে উল্লাসে ফেটে পড়ে।মুক্তিযোদ্ধারা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটনায়।

মূলত এ দিনই পাবনার মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ উপলব্ধি করে। মুক্তিযোদ্ধারা শহরে এসে সমবেত হতে থাকে। পরে পাবনা কালেক্টরেট ভবনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে তৎকালীন জাতীয় পরিষদ সদস্য মরহুম আমজাদ হোসেন পাবনা জেলাকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করেন।

আরএআর/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।