কারাগারে আঁখি : রিমান্ড শুনানি রোববার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:২৮ এএম, ০৬ জানুয়ারি ২০১৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনালয় ‘গৌরমন্দির’ ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতার দেখানো হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে আদালতের কাজ শেষে আঁখিকে কারাগারে পাঠানো হয়। আগামী রোববার (৮ জানুয়ারি) আঁখিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদনের উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলা জজ আদালতের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মো. মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে জানান, নাসিরনগরের হামলার ঘটনায় আঁখির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি নাসিরনগরে লোক সমাগমের জন্য ট্রাক ভাড়া করে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করার জন্যে অর্থ লগ্নিও করেছেন।

তিনি আরও জানান, আঁখিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তবে আজ (শুক্রবার) আদালত বন্ধ থাকায় রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই আঁখিকে বিকেলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আগামী রোববার (৮ জানুয়ারি) আদালত খোলার পর রিমান্ড আবেদনের উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) ভোরে ঢাকার ভাটারা থানা এলাকা থেকে আঁখিকে আটক করে পুলিশ। এদিন বিকেল ৩টার দিকে আঁখিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে ভাটারা থানা পুলিশ। এরপর ৩০ অক্টোবর গৌরমন্দির ভাঙচুর মামলায় আঁখিকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

পরে শুক্রবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে আঁখিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাফ উদ্দিনের আদালতে পাঠায় পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরীফ নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র পোস্ট দেয়ার অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মামলায় গ্রেফতার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ (৩০) দাসের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে নাসিরনগর উপজেলা।

পরদিন (৩০ অক্টোবর) মাইকিং করে সমাবেশ ডাকে দুইটি ইসলামী সংগঠন। সমাবেশ শেষ হওয়ার পরপরই দুষ্কৃতকারীরা নাসিরনগর উপজেলা সদরে হামলা চালিয়ে অন্তত ১০টি মন্দির এবং শতাধিক ঘর-বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

এরপর ৪ নভেম্বর ভোরে ও ১৩ নভেম্বর ভোরে দুষ্কৃতকারীরা আবারও উপজেলা সদরে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ৬টি ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এসব ঘটনায় নাসিরনগর থানায় পৃথক ৮টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাসহ ১০৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আজিজুল সঞ্চয়/এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।