ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম
বাগেরহাটে থাকতে ৫ লাখ ‘ঘুস’ দাবি, জেলার বললেন ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’
জামিনে কারামুক্ত নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের কাছে ঘুস চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন।
তিনি বলেছেন, টাকার জন্য নয়, কারারক্ষীদের হুমকি ও অন্য বন্দিকে মারধরসহ একাধিকবার কারা অপরাধের কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকায় স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত শেষে জেলারের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা ঘুস চাওয়ার অভিযোগ করেন জুয়েল হাসান সাদ্দাম।
তিনি বলেন, ‘বাগেরহাটের জেলার আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছেন। আমার যদি বাগেরহাট থাকতে হয়, তাহলে জেলারকে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা দিতে না পারায় আমাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।’
বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে সাদ্দাম। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পালানোর পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দামকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন: স্ত্রী-সন্তানের কবরের মাটি ছুঁয়ে অঝোরে কাঁদলেন সাদ্দাম, চাইলেন বিচার
৬ এপ্রিল আদালতের নির্দেশে সাদ্দামকে বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ২২ জুলাই ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে বাগেরহাট থেকে তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানন্তর করা হয়। সেই থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে ছিলেন তিনি।
বাগেরহাট কারাগারের নথি অনুযায়ী, বন্দি অবস্থায় গত বছরের ১২ এপ্রিল একজন সেল ইনচার্জকে (বাদশা মিয়া) হুমকি দেন এবং গালাগাল করেন সাদ্দাম। ৬ জুলাই অপর এক বন্দিকে মারধর করেন।
তবে সাদ্দামের অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ উল্লেখ করে বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন বলেন, ‘তার আচরণের কারণেই তাকে যশোরে পাঠানো হয়। এখানে অন্য কোনো ঘটনা নেই। আর জেলার চাইলেই কাউকে অন্য জেলে স্থানান্তর করতে পারে না। এ ধরনের ভিত্তিহীন কথার আমি প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কারারক্ষীদের হুমকি, অন্য বন্দিকে মারধরসহ একাধিকবার কারা অপরাধের কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। বাগেরহাট কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি সবসময় আমাদের স্টাফদের এবং আশপাশের বন্দিদের সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও ভয়ভীতি দেখাতেন। এই ধরনের আচরণের মধ্যে তিনি ছিলেন।’
নাহিদ ফরাজী/এসআর/জেআইএম