রসরাজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন আশুতোষ


প্রকাশিত: ০৯:২৬ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৭
রসরাজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন আশুতোষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আইসিটি আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার রসরাজ দাসের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন আলোচিত আশুতোষ দাস।

বুধবার আদালতে এ জবানবন্দি দিয়েছেন আশুতোষ। তিনি নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের অনুকুল দাস ওরফে মনা মাস্টারের ছেলে।

নাসিরসগর হামলার ঘটনার পরপরই আশুতোষ ভারতে গা ঢাকা দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। আশুতোষ গা ঢাকা দেয়ার পর থেকে মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে পুলিশ।

অবশেষে নানা নাটকীয়তার পর গত সোমবার আখাউড়া-আগরতলা ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (আইসিপি) দিয়ে আশুতোষকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

এদিনই পরিবারের লোকজন আশুতোষকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে আশুতোষকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এদিকে, পুলিশ বাদী হয়ে রাসরাজের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় সাক্ষী হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন আশুতোষ।

এদিন বিকেলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলামের আদালতের তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তবে জবানবন্দিতে আশুতোষ আদালতকে কী বলেছেন সেটি স্পষ্ট করে বলছে না পুলিশ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রসরাজের ফেসবুক আইডি থেকে কে সেই ধর্মীয় অবমাননার ছবি পোস্ট করেছে, পোস্টের বিষয়ে রসরাজ কীভাবে জানতে পেরেছে, ক্ষমা চাওয়ার পোস্ট কে দিয়েছে? এসব বিষয়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আশুতোষ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মফিজ উদ্দিন ভূইয়া আশুতোষের জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জাগো নিউজকে জানান, আশুতোষ তার জবানবন্দিতে কী বলেছেন, সেটি মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে জবানবন্দিতে আশুতোষ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আশুতোষকে তার পরিবারের হেফাজতে দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ধর্মীয় অবমাননার ছবি ফেসবুকে পোস্টের অভিযোগে গ্রেফতার রসরাজ দাসের ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড আশুতোষ দাস জানতেন। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন নাসিররগর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার আল-আমিন সাইবার ক্যাফের মালিক জাহাঙ্গীর আলম।

আজিজুল সঞ্চয়/এএম/আরআইপি