রসরাজের ভাইকে খুঁজছে পুলিশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হামলার ঘটনায় এবার রসরাজ দাসের ছোট ভাই পলাশ দাসের খোঁজে নেমেছে পুলিশ। রসরাজের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় হরিণবেড় গ্রামের অনুকুল দাস ওরফে মনা মাস্টারের ছেলে আশুতোষ দাসের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের পর থেকে তাকে খোঁজ হচ্ছে।
যদিও পুলিশ কর্মকর্তারা সরাসারি পলাশের খোঁজে নামার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। তবে আশুতোষ তার জবানবন্দিতে যে কজনের নাম বলেছেন তাদেরকে খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন।
জানা যায়, ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরীফকে ব্যঙ্গ করে ছবি পোস্টের জেরে রসরাজ দাসকে পুলিশ গ্রেফতার করার পর থেকেই লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা। গত ২৯ অক্টোবর রাতের আঁধারে রসরাজের পরিবারের সদস্যরা যখন কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে চলে যান, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন নিরাপত্তাহীনতার কারণেই তারা হয়তো ভারতে চলে গেছেন।
তবে ৩০ অক্টোবর হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও ঘর-বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনার একমাস পর ২ ডিসেম্বর রসরাজের মুক্তি চেয়ে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন পরিবারের লোকজন। এরপর ৪ ডিসেম্বর বাড়ি ফিরেন রসরাজের পরিবারের সদস্যরা। তবে বাবা জগন্নাথ দাস, মা নমিতা রাণী দাস ও বড় ভাই দয়াময় দাস বাড়ি ফিরলেও ছোট ভাই পলাশ দাস এখনো নিরুদ্দেশ।
এদিকে, হামলার ঘটনার পর ভারতের আগরতলায় গা ঢাকা দিয়ে থাকা আশুতোষ দাসকে গত ৯ জানুয়ারি কৌশলে দেশে ফিরে আনে পুলিশ। এদিনই তাকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুলিশ তাকে ফেসবুকে সেই ধর্মীয় অবমাননার ছবি পোস্টসহ নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এরপর ১১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলামের আদালতে রসরাজ দাসের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে দায়ের করা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলার সাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে আশুতোষ আদালতকে কী বলেছেন সেটি স্পষ্ট করে জানা না গেলেও রসরাজের ফেসবুক আইডি থেকে কে সেই ধর্মীয় অবমাননার ছবিটি পোস্ট করেছে, পোস্টের বিষয়ে রসরাজ কীভাবে জানতে পেরেছে, এরপর ক্ষমা চাওয়ার পোস্ট কে দিয়েছে? এসব বিষয়ে পুলিশের করা জিজ্ঞাসাবাদে আশুতোষ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়।
ওই সূত্রটি আরও জানায়, আশুতোষ তার জবানবন্দিতে ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননার সেই পোস্ট নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। রসরাজের খুব ঘনিষ্ঠজন ওই ছবিটি পোস্ট করেছিল বলে আশুতোষ পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তা এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আশুতোষকে তারা পরিবারের হেফাজতে দিয়ে দেয়।
অপর একটি সূত্র জানায়, হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু লালের ওমান প্রবাসী পুত্র মামুন রসরাজের মোবাইল ফোনে কল করে ছবি পোস্ট হওয়ার বিষয়টি অবগত করে সেই ছবিটি মুছে ফেলার জন্য বলেন। তবে রসরাজ তখন বিলে থাকায় তার ছোট ভাই পলাশ ফোনটি রিসিভ করেন। তখন আলোচনার প্রেক্ষিতে মামুন ক্ষমা চাওয়ার একটি পোস্ট লিখে ইমোতে দেন। এরপর আশুতোষ ছবি ডিলিট করে ওই পোস্ট ফেসবুকে দিয়ে দেন। আশুতোষ রসরাজের ফেসবুক পাসওয়ার্ড জানতেন-এমন খবর এলাকায় চাউর হওয়ার পরই তিনি ভারতে চলে যান।
অন্যদিকে, রসরাজের পরিবারের সদস্যরা তাদের বাড়িতে ফিরে গেলেও ছোট ভাই পলাশ দাসের কোনো খোঁজ মিলছে না। সাক্ষী হিসেবে আশুতোষের জবানবন্দি গ্রহণের পর এখন পলাশকেও খুঁজছে পুলিশ। আশুতোষ যাদের নাম বলেছেন তাদেরকে ধরতে পারলেই রহস্যের জট পুরোপুরি খুলে যাবে বলে পুলিশের ধারণা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, আশুতোষ কয়েকজনের নাম বলেছেন। আমরা তাদেরকে খুঁজছি। তাদের ধরতে পারলেই রহস্যের জট খুলে যাবে। আশুতোষ যাদের নাম বলছেন তাদের মধ্যে পলাশ রয়েছেন কী না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে সরাসরি কারো নাম এখন বলা যাবে না। তাহলে তারা সতর্ক হয়ে যেতে পারে।
এমএএস/পিআর