শিবগঞ্জ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির কার্যক্রম শুধুই কাগজে-কলমে


প্রকাশিত: ১০:১৩ এএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৭

বগুড়ার শিবগঞ্জ পৌরসভা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির কার্যক্রম চালু থাকলেও প্রকৃত মৎস্যজীবীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি যাবতীয় সুবিধা ভোগ করছেন। এ অবস্থায় সুবিধা বঞ্চিত প্রকৃত মৎস্যজীবীরা সমিতির রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) বাতিল করার দাবিতে বিভিন্ন দফতরে আবেদন জানিয়েছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক সমবায় সমিতির নামে পুকুর লিজ নিয়ে তার নিজের নামে ব্যবসা করার কথা স্বীকার করেছেন।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, শিবগঞ্জ পৌর এলাকার অস্বচ্ছল মৎস্যজীবীদের সরকারিভাবে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে গত ২০০৯ সালে শিবগঞ্জ পৌরসভায় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি গঠন করা হয়। যার রেজিস্ট্রেশন নং-১২।

সমিতি গঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ভালো হলেও শুরুতেই কিছু সুবিধাবাদী লোকজনের পরিচালনা করার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর তারাই প্রকৃত মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও অপেশাদার কথিত মৎস্যজীবীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে। শুরুর পর দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর ধরে নামমাত্র কার্যক্রম চালিয়ে যাবতীয় সরকারি সুবিধা তারা পেয়ে আসছে।

বঞ্চিত করা হয়েছে গরীব মৎস্যজীবীদের। শুধু তাই নয় দরিদ্র এসব মৎস্যজীবীদের পড়ালেখা কম থাকার সুযোগে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সমিতির নামে সরকারি খাস পুকুর লিজ নিয়েছে। এখন তারাই এসবের যাবতীয় সুবিধা ভোগ করে আসছেন।

কয়েক বছর আগে সমিতির নামে কয়েক বছর আগে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ নেয়া হয়। কিন্তু ঋণের বিষয়টি সমিতির সদস্যরা কিছুই জানেন না। সম্প্রতি সমিতির সদস্যদের নামে ঋণ পরিশোধ করার নোটিস এলে তারা বুঝতে পারেন তাদের সমিতির নামে ঋণ নেয়া হয়েছে। এছাড়া সমিতির আয়-ব্যয়, পুকুর লিজ সংক্রান্ত কোনো তথ্যই তাদের কে দেয়া হয় না বলে কয়েকজন মৎস্যজীবী অভিযোগ করেন।

শিবগঞ্জ পৌরসভা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, সমিতির সভাপতি আমিনুর ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে রয়েছেন। বর্তমানে সমিতি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক হওয়ায় তার ভয়ে কেউ কোনো কথা বলতে সাহস পায় না। কারণ এলাকায় তার একাধিক বাহিনী রয়েছে। কিছুদিন আগে একটি পুকুর দখল করতে গিয়ে ওই বাহিনী জনরোষের শিকার হয়। সে সময় মারপিটের ঘটনাও ঘটে।

এদিকে, সম্প্রতি সরকার সারাদেশে অস্বচ্ছল প্রকৃত মৎস্যজীবীদের তালিকা করে তাদের পরিচয়পত্র প্রদান করেন। তারপরেও শিবগঞ্জে শুধু আওয়ামী লীগ সভাপতির প্রভাবের কারণে সেখানে প্রকৃত মৎস্যজীবী ছাড়া সমবায় সমিতিতে অন্য পেশার মানুষদের মৎস্যজীবী হিসেবে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। অনেকে আবার মৎস্যজীবী না হয়েও তালিকাতে নিজেদের নাম উঠিয়েছেন।

শিবগঞ্জ পৌরসভা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, সমিতির নামে পুকুর লিজ নেয়া হলেও প্রকৃত মৎস্যজীবীদের তাতে কোনো অংশগ্রহণ নেই। সমিতির নামে লিজ নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক ওই সব পুকুর নিজেই চাষ করছেন।

তিনি (দেলোয়ার) দীর্ঘদিন ধরে তার সমস্ত পুকুর দেখাশুনার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সম্প্রতি উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের তুতখুর মৌজার একটি খাস পুকুর ডেকে নিতে না পারায় তাকে সন্দেহ করা হয়। এরপর সভাপতি আজিজুল বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধামকি দিলে ভয়ে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে পুকুর লিজ নিয়ে তার নিজ নামে ব্যবসা করার কথা স্বীকার করে বলেন, একটি সমিতির রেজিস্ট্রেশন বাতিল হলে কোনো সমস্যা নেই। উপজেলায় এ রকম অনেক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি রয়েছে যেগুলোতে ব্যবসা করতে তার কোনো সমস্যা হবে না।

শিবগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রনি চন্দ্র মন্ডল অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সমিতির রেজিস্ট্রেশন দেয় সমবায় অফিস। অনিয়ম হলেও তা বাতিল করার এখতিয়ার আমাদের নেই।

অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বগুড়া জেলা সমবায় কর্মকর্তা নূরুন্নবী বলেন, মৎস্য বিভাগ মৎস্যজীবীদের তালিকা দিয়ে থাকে। সেই হিসেবে আমরা নিবন্ধন দিয়ে থাকি। তবে তারা ভুয়া মৎস্যজীবী সম্পর্কে তথ্য প্রদান করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।