বগুড়ায় স্বর্ণের দোকানে ডাকাতিতে অংশ নেয় ১৩ জন


প্রকাশিত: ১১:৪৪ এএম, ২১ জানুয়ারি ২০১৭

বয়সে তারা প্রত্যেকেই টগবগে যুবক। একেক জন একেক পেশার হলেও তাদের স্বপ্ন ছিলো আকাশ ছোঁয়া। এক লাফে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রুপ দিতে গঠন করে ডাকাতদল। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বড়বড় শপিং মল ও বাসাবাড়িতে ডাকাতি করে বেড়ায় তারা। এই দলের সর্বশেষ টার্গেট ছিল বগুড়ার আল-হাসান জুয়েলার্স।

ওই জুয়েলার্স থেকে ছয়শ ভরি সোনা ও পাঁচ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে প্রায় পালিয়ে গিয়েছিল তারা। তবে পুলিশের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত তারা ব্যর্থ হয়েছে।

ইতিমধ্যেই ডাকাতদলের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। তাদেরই একজন বগুড়ার আদালতে শনিবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

জানা গেছে, ১৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল এই ডাকাতি করে। এর মধ্যে প্রথমে একজন ছাড়া বাকি দুইজনের একজনকে ঢাকায় পালানোর সময় এবং অন্যজনকে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রিপন (৩২) নামের এক ডাকাত শনিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামানের কাছে ডাকাতির দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

রিপনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার পিটুয়াবন্দের বাড়ি গ্রামে। রিপনকে ডাকাতির পরের দিনই গ্রেফতার করা হলেও তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তা গোপন রাখে। ডাকাতির পরপরই রাতে একটি কোচে চেপে বগুড়া থেকে সে ঢাকায় পালিয়ে যাচ্ছিল। গোপন সংবাদ পেয়ে সদর থানার পুলিশ বঙ্গবন্ধু সেতুতে কোচে তল্লাশি চালায়। এরপর তার পায়ে ক্ষত চিহ্ন দেখে পুলিশ তাকে ধরে ফেলে। ডাকাতি শেষে হাতবোমা ফাটিয়ে চলে যাওয়ার সময় রিপনও আহত হয়েছিল। এর ক্ষত চিহ্ন তার পায়ে ছিল।

জবানবন্দিতে রিপন জানায়, তাদের দলে ১৩ জন রয়েছে। এর আগেও তারা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি করেছে। তাদের ১৩ জনের বাড়ি আশুলিয়া, মোহাম্মদপুর, সাভার, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। বিভিন্ন সোর্সেও মাধ্যমে খোঁজ বের করে তারা ডাকাতি করে পালিয়ে যায়। এ পর্যন্ত ১০ এর অধিক ডাকাতি করেছে তারা।

বগুড়া সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আসলাম আলী জানান, রিপনের স্বীকারোক্তিতে পুলিশ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে আলম খান (২৮) নামের অপর ডাকাত গ্রেফতার করেছে। আলম বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বেজগাতি গ্রামের হোসেন খানের ছেলে। এ নিয়ে তিন ডাকাত ধরা পড়ল। এর আগে ঘটনার দিন রাতেই পালানোর সময় পুলিশ গুলি করে আলমগীর নামের আরও এক ডাকাতকে গ্রেফতার করে। সে পুলিশি পাহারায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ওসি জানান, সংঘবদ্ধ এই ডাকাতদলের সদস্যরা ঢাকায় আরও সোনার দোকানে ডাকাতি এবং মোহাম্মদপুরে বসতবাড়িতে ডাকাতি করাসহ অন্য জেলাতেও ডাকাতি করেছে বলে স্বীকার করেছে। এদের মধ্যে রিপন ছিল একজন গার্মেন্টস কর্মী। চাকরি হারানোর পর সে ডাকাতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। চাকরির পরে সে একটি গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করতো। গাড়ির চালক থাকাকালে তার বিভিন্ন জেলার সংঘবদ্ধ ডাকাতদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে। এ পরিচয় থেকে সে ডাকাত দলে যুক্ত হয়।

আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।