মহাস্থানগড়ের বৈরাগীর ভিটায় প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু


প্রকাশিত: ১২:০৫ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০১৭

আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গনগরী বগুড়ার মহাস্থানগড়ের বৈরাগীর ভিটায় প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে এ খনন কাজ শুরু হয়েছে।

মহাস্থান দুর্গনগরীর মাঝামাঝি এলাকা লইয়েরকুড়ি বা ফ্রান্স মাঠ নামে পরিচিত ভিটার উত্তর-পশ্চিমকোণে এবং মহাস্থান জাদুঘর থেকে দক্ষিণ দিকে কয়েকশ গজ দূরেই অবস্থিত বৈরাগীর ভিটায় এবারের খনন কাজ চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে দুপুরে ২টা পর্যন্ত  চলছে খনন কাজ।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হওয়া এ খনন কাজ চলবে দুই থেকে আড়াই মাসব্যাপী। খননকালে প্রাচীন আমলের নানা স্থাপত্য নিদর্শন উদ্ধার ও ইতিহাস অনুসন্ধানের আশা করছেন প্রত্নবিদরা।

খননকাজে নিযুক্ত ৬ সদস্যের দলের ফিল্ড ডাইরেক্টর হিসেবে আছেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা।

এছাড়াও দলনেতা হিসেবে আছেন মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মজিবর রহমান। অংশ নিচ্ছেন সহকারী  কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ, সিনিয়র ড্রাফটম্যান আফজাল হোসেন, ফটোগ্রাফার আবুল কালাম আজাদ ও অফিস সহকারী আব্দুস ছালাম।

মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মজিবর রহমান জানান, দীর্ঘদিন বিরতির পর আবার বৈরাগীর ভিটায় প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু হয়েছে। পাকিস্তান আমলে এখানে প্রথম খনন শুরু করা হয়। সেই সময় দুটি প্রাচীন মন্দিরের সন্ধান মিলেছে। এরপর এখানে আর কোনো খনন হয়নি। আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গনগরী মহাস্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা প্রত্নসম্পদ। ইতিহাসের সন্ধানেই এবারও বৈরাগীর ভিটায় খনন শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সবে খনন কাজ শুরু হয়েছে। এখন কয়েকটি প্রাচীন দেয়ালের সন্ধান মিলেছে। তবে বিস্তারিত জানতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।

উল্লেখ্য, এর আগে বৈরাগী ভিটার দক্ষিণে ফ্রান্সের ভিটায় খনন করে গুপ্ত আমলের শেষ দিকে তৈরি করা প্রাচীন ইটের দেয়াল পাওয়া যায়।

এছাড়াও কাঁচের গুটিকা, মাছ ধরার জালে ব্যবহারের জন্য তৈরি পোড়া মাটির বল, ফুলাংকিত ও পিরামিড আকারের নকশা করা ইট উদ্ধার করা হয়। যেগুলো যিশু খ্রিস্টের জন্মেরও ৬০০ বছর আগের। তবে সেগুলো মৌর্য আমলে ব্যবহার করা হয় বলে ধারণা প্রত্মতাত্ত্বিকদের।

লিমন বাসার/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।