সাত দিনেও উদ্ধার হয়নি চুরি হওয়া নবজাতক


প্রকাশিত: ০১:৪৩ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০১৭

সাত দিনেও উদ্ধার হয়নি রাজশাহীতে চুরি হওয়া নবাজাতক। তবে এরই মধ্যে চোরকে শনাক্ত করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত করা গেছে ওই নারীকে। গ্রেফতার তো দূরের কথা এখনো তার নাম-পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, লাল ওড়না ও কালো কামিজ পরিহিত ওই নারীর বয়স আনুমানিক ৪০ বছর।  চোখে চশমা পরা ওই নারীর হাতে ভ্যানেটি ব্যাগ ছিল। বিনোদপুর বাজার এলাকায় রিকশা থেকে নামছেন তিনি। এরপর পায়ে হেঁটে কাটাখালির দিকে যেতে দেখা গেছে তাকে। ১২ সেকেন্ডের একটি ফুটেজে ধরা পড়েন ওই নারী। তবে দিনের বেলায় হওয়ায় তিনি স্পষ্ট ধরা পড়েছেন ক্যামেরায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নগরীর শাহ মখদুম থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান বলেন, নগরীর বিনোদপুর এলাকার সড়কে লাগানো রাসিকের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজে ওই নারীকে পাওয়া গেছে। তিনি ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। ঘটনার আগের দিন দুপুর ক্যামেরাই ধরা পড়েন তিনি।

এ ঘটনায় গ্রেফতার নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাঠকর্মী তহুরা বেগম তাকে শনাক্ত করেন। ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করেছেন ওই নবজাতকের মা মুক্তি খাতুন ও নানী রোজিনা বেগম।

তবে তারা কেউ তার নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি। তাকে গ্রেফতারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযানে নেমেছে বলেও জানান এসআই মতিউর রহমান।

গত ১৯ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে নগরীর নওদপাড়া নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে অজ্ঞাত ওই নারী কৌশলে চুরি করে নিয়ে যান ওই নবজাতককে।

ওই দিনই বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর চরশ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা মুক্তি খাতুন ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছেলেসন্তান জন্ম দেন। প্রসব বেদনা নিয়ে ওই দিন সকাল ১০টার দিকে তিনি সেখানে ভর্তি হন।

শুরু থেকে মাঠকর্মী তহুরা বেগম তার সঙ্গে ছিলেন। ওই অচেনা নারী নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল গবেষক পরিচয় দেন। তার চিকিৎসার খরচ বাবদ তিন হাজার টাকা দেন তিনি। এছাড়া বাচ্চার জন্য একটি তোয়ালে, কম্বল ও নতুন পোশাক কিনে দেন। পরে ওই নারীই নিয়ে চলে যান তার সন্তানকে।

নবজাতকের নানী রোজিনা বেগমের দায়ের করা মামলায় ওই দিনই গ্রেফতার হন তহুরা বেগম। পরে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/এএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।