পেঁয়াজ বীজের সাদাফুলে ভরা মাঠ


প্রকাশিত: ০৪:৩২ এএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

ফরিদপুর জেলার মাটি ও আবহাওয়া পেঁয়াজ বীজ চাষের উপযোগী হওয়ায় এর আবাদ দিন দিন এ অঞ্চলে বাড়ছে। মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ বীজের সাদা ফুল। দু`চোখের দৃষ্টিসীমা যতদূর যায়, শুধু সাদা ফুলের সমারোহ।

শহরতলীর অম্বিকাপুর ইউনিয়নের পেঁয়াজ বীজের মাঠ পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক বেগম উম্মে সালমা তানজিয়া ও কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ।

দেশের সর্ববৃহৎ পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে ফরিদপুর জেলা। দিনকে দিন বাড়ছে পেঁয়াজ বীজ আবাদের চাষির সংখ্যা। গত কয়েক বছর ধরে অম্বিকাপুরের কৃষক বক্তার হোসেন খান ব্যক্তিগত উদ্যোগে পেঁয়াজ দানা উৎপাদন শুরু করেন।

দিন দিন বীজ আবাদের পরিমাণ বাড়িয়ে চলতি বছর মোট ২৫ একর জমিতে পেঁয়াজের বীজ আবাদ করেছেন বক্তার খান। বক্তার খানের সাফল্য দেখে এলাকার অনেকেই বীজ আবাদে নেমেছেন। অন্য চাষিরাও পুরোদমে পেঁয়াজ বীজ আবাদ করছেন এবং লাভবান হচ্ছেন।
 
বীজ চাষি বক্তার খান জানান, পেঁয়াজের বীজ যেমন লাভজনক তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ ফসল। গত বছর ১৪ একর জমিতে পেঁয়াজ বীজ আবাদ করে ৭০ মণ বীজ পেয়েছিলাম। প্রতিমণ বীজ ৬৫ হাজার টাকা দরে প্রায় ৪৬ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। চলতি বছর ২৫ একর জমিতে পেঁয়াজ বীজ আবাদ করেছি। ১ একর জমিতে সবমিলিয়ে খরচ হবে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার মত।

এ বছর  ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বীজ আবাদে খরচ হবে। আসা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ২৫ একর জমি থেকে ১৭৫ মণ বীজ পাবো। এগুলো এক কোটি টাকার উপরে বিক্রি করতে পারবে বলে আশা করছি।

Faridpur
তিনি আরও জানান, আমার উৎপাদিত বীজ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে থাকে। এছাড়াও কুষ্টিয়া, পাবনা, মানিকগঞ্জ, কালুখালী, পাংশা বাজবাড়ী, ময়মনসিংহ, সেরপুর, রাজশাহী, ঝিনেইদাহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পেঁয়াজ চাষিদের চাহিদা পূরণ করে থাকে।

বক্তার হোসেনের বীজের মাঠে কাজ করে এলাকার অনেক বেকার যুবক ও কৃষকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। প্রতিদিন বক্তার খানের খেতে ২৫-৩০ জন শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। জমি তৈরি থেকে শুরু করে বীজ ঘরে তোলা পর্যন্ত একটানা ৬ মাস তারা কাজ করেন বক্তার খানের পেঁয়াজ বীজ মাঠে।

সরকারি সহযোগিতা পেলে আগামীতে আরো বেশি জমিতে বীজের আবাদ করবেন এমনটাই আশা প্রকাশ করলেন বক্তার হোসেন।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জি. এম. আব্দুর রউফ বলেন, পেঁয়াজ বীজ অত্যন্ত মূল্যবান ফসল বলে এই বীজকে কৃষকেরা কালো সোনা বলে থাকেন। এই জেলার উৎপাদিত পেঁয়াজ বীজ উৎকৃষ্টমানের। চলতি বছর ফরিদপুর জেলা প্রায় ২ হাজার ৫শ হেক্টোর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়েছে। এই বীজ চাষে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে থাকি।

এদিকে বক্তার খানের পেঁয়াজের মাঠ পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জি. এম. আব্দুর রউফ, ফরিদপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আবুল বাসার মিয়া।

জেলা প্রশাসক বক্তার খানের পেঁয়াজ মাঠ দেখে অবিভুত হন। ফরিদপুরের পেঁয়াজ বীজকে জেলার ব্র্যান্ডিং হিসেবে ঘোষণা করতে সরকারের কাছে সুপারিশ করবেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

এছাড়া চাষিদের সহজ শর্তে ৪ শতাংশ হার সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে অনুরোধ করবেন বলেও তিনি জানা।

এস.এম. তরুন/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।