আজিজুল হকে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনার সুত্রপাত হলেও ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে রাত সাড়ে ১১টার দিকে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্যাম্পাসে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মঞ্চের সামনের চেয়ারে বসা নিয়ে প্রথমে কলেজ ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পরে রাতে তারই জের ধরে দুটি ছাত্রাবাস ও তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও আগুন লাগানো হয়।
আমিনুল ইসলাম নামের একজন শিক্ষার্থী জানান, কলেজ প্রশাসনের আয়োজনে ক্যাম্পাসে মাসব্যাপী গ্রন্থমেলা চলছে। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতেই চেয়ারে বসা নিয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফের সঙ্গে সভাপতি কেএম মোজাম্মেল হোসেনের কর্মী মোস্তাকিন রহমান সবুজের কথা-কাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে আবদুর রউফের পক্ষের আরিফ এবং রায়হান নামের দুই কর্মী আহত হন। তাদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসলাম হোসেন এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফের নেতৃত্বে তাদের সমর্থকেরা কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে কলেজের পাশে জহুরুলনগর এলাকায় যান। সেখানেও মোস্তাকিন রহমানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলা চালিয়ে তাদের তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
এ ঘটনার পর আসলাম ও রউফের কর্মী-সমর্থকেরা জহুরুলনগর এলাকার জাহানারা ম্যানসন ও রাবেয়া ছাত্রাবাস ভাঙচুর করে। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি ছাত্রাবাসে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।
এরপরও রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। শেষে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জহুরুল নগরে সংঘর্ষে সাব্বির, মনির ও সজীব নামে ছাত্রলীগের আরো তিন কর্মী আহত হন।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার রায় ঘটনার পর সাংবাদিকদের বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকটি ছাত্রাবাসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসলাম হোসেন দায়ী।
অপরদিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক ঘটনার জন্য মোস্তাকিন রহমানকে দায়ী করে বলেন, তার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। বহিরাগতদের ডেকে নিয়ে গিয়ে তিনি ছাত্রলীগ কর্মীদের মারধর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছেন। পরে সুযোগ সন্ধানী কিছু লোকজন মেসে হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে।
তবে বগুড়া সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদ হোসেন বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে একটু উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। কোনো ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ হয়নি। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এফএ/এমএস