মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। শনিবার উপজেলার দেউলী ও লাউহাটী ইউনিয়নের আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে এ যাচাই-বাছাই শুরু হয়।
যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ নিয়ে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে কতিপয় অমুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। ফলে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় সার্টিফিকেটহীন মুক্তিযুদ্ধে সম্পৃক্ত প্রকৃত ব্যক্তিরা বাদ পড়ার শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার অফিস সূত্রে জানা যায়, ৬৮৭ জন নতুন আবেদনকারীর আবেদন যাচাই-বাছাই হবে।
বাছাই কমিটির সদস্যরা হলেন- টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার-নাগরপুর) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল বাতেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন কবির, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু তাহের তালুকদার বাবলু, জেলা সহকারী কমান্ডার খন্দকার ফেরদৌস আলম রঞ্জু, উপজেলা ডেপুটি কমান্ডার ফরহাদ আলী খান, মুক্তিযোদ্ধা মো. মতিয়ার রহমান ও মো. আব্দুল কাদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ, দাবিদার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শুরু হলেও এই থেকে বঞ্চিত হবেন সার্টিফিকেটহীন মুক্তিযুদ্ধে সম্পৃক্ত প্রকৃত ব্যক্তিরা।
ইতোমধ্যেই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের একটি সিন্ডিকেট এ তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে দুই লাখ করে টাকা নেয়া শুরু করেছেন।
সার্টিফিকেটহীন মুক্তিযুদ্ধে সম্পৃক্ত প্রকৃত ব্যক্তিদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে এ সুযোগ সৃষ্টি করা হলে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অমুক্তিযোদ্ধারা সুবিধাভোগী হতে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের।
এ যাচাই-বাছাইয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডাসহ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জীবিত নেতৃবৃন্দ ও জেলা প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দেলদুয়ার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের কমান্ডার আবু তাহের তালুকদার বাবলু। অর্থ নেয়ার বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন কবির বলেন, দাবিদার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে কোনো অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরিফ উর রহমান টগর/এএম/জেআইএম