বিজিবির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরে পদে পদে ভোগান্তি। আর এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভোমরা বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা।
ভারত থেকে পচনশীল মালামাল বাংলাদেশে প্রবেশের পর বিজিবি চেক করার নামে সময় লাগিয়ে দেয় ২-৩ দিন। এতে একদিকে পচে যাচ্ছে কাঁচামাল অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এটিকে, বিজিবি আর ব্যবসায়ীদের সম্পর্কের অবনতির ফল বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
ভোমরা বন্দর ট্রান্সপোর্ট মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. কামরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বিগদ দুই বছর ধরে বিজিবি ও মাদার অ্যাসোসিয়েশনের (সিঅ্যান্ডএফ) সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নেই।
সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কারণে এখন বিজিবির হয়রানির শিকার হচ্ছি আমরা। ব্যবসায়ীরা ক্ষতির শিকার হচ্ছে। চেক করার নামে বিজিবি হয়রানি করছে। ভারত থেকে মালামাল বাংলাদেশে প্রবেশের পর সময়ক্ষেপণ করাচ্ছে বিজিবি। ফলে মালামাল পচে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবাসীয়রা।
তিনি আরও বলেন, ভারতে ৪-৫ দিন অপেক্ষার পর ভোমরা বন্দর দিয়ে গাড়ি বাংলাদেশে প্রবেশের পর বিজিবি ২-৩ দিন সময় পার করে দেয়। 
সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জুয়েল বলেন, কাস্টমস আইনে আছে কাস্টমস যে মাল ছাড় করবে সে মাল বাংলাদেশের কোনো বাহিনী হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। অথচ বিজিব অযথা হয়রানি করছে আমাদের।
কাগজপত্র চেক করতে গিয়ে হয়রানি করায় ব্যবসায়ীরা এ বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। গাড়ি ছাড় করাতে দুই তিনদিন লাগিয়ে দেয়। হয়রানিতে আর ব্যবসা করতে পারছি না। এসবের কারণে বন্দরের উন্নতির কোনো লক্ষণ নেই।
ট্রাকচালক আব্দুল কাদের বলেন, গাড়ি লোড করে বের হয়ে যাওয়ার সময় বিডিআর বিরাট বিরক্ত করে। একটা গাড়ি সারাদিনও এন্ট্রি হয় না। এমন হয় একদিন গাড়ি বের করতে পরি না। সময়মতো মাল পৌঁছাতে পারছি না। মাল পচে যায়।
ভোমরা স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) পার্থ ঘোষ বলেন, বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আপেল, মাছ, আঙ্গুর, কমলা, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, আদা, তেঁতুল, বরই (কুল) প্রবেশ করে। হয়রানির বিষয়টি একেবারে বিজিবির অংশ। ব্যবসায়ী ও বিজিবি আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করতে পারেন।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সাতক্ষীরার ভোমরা এলাকায় ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ভোমরা বন্দর। সেখানে ব্যবসায়ী সংগঠন রয়েছে ভোমরা ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন, সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন, কর্মচারী সংগঠন কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন ও চারটি শ্রমিক সংগঠন।
বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ২৫০-৩০০টি কাঁচামাল ও ফলের ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসব কথা জানিয়ে বিজিবির হয়রানি বন্ধের দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।
তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে সাতক্ষীরা ৩৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আরমান হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, যদি কোনো ব্যবসায়ী সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেয় কোথায় হয়রানি হচ্ছে, তবে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোথাও হয়রানি করা হচ্ছে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।
এদিকে, জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন বলেন, বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার সকল এজেন্সিকে ডেকে বৈঠক করা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ভারতীয় ট্রাক যখন বাংলাদেশে প্রবেশ করবে তখন একই জায়গায় যেন সব এজেন্সির চেক হয়ে যায়। তাতে সময়ক্ষেপণ হবে না। তবে নতুন করে আবারও অভিযোগ পেলে বিভিন্ন এজেন্সি নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।
আকরামুল ইসলাম/এএম/এমএস