এনসিটিবির অনুমোদনহীন বইয়ে বাজার সয়লাব
টাকার বিনিময়ে অনুমোদনহীন বই বাজারজাত করতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন সাতক্ষীরা শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ। এমন অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের এই সংগঠনের বিরুদ্ধে। আর এই এনসিটিবি’র অনুমোদনহীন বইতে এখন সাতক্ষীরার বাজার সয়লাব।
বইগুলোর মধ্যে রয়েছে, শৈলী বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা, ভাষা প্রদীপ বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা, সেতু বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা, ফায়াদ বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা, বেসিক ইংরেজি গ্রামার, ফায়াদ ইংরেজি গ্রামার, ইজি প্রোটেনিশাল গ্রামার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দরা জানায়, ২০১৭ সালে সাতক্ষীরা সদর ও আশাশুনি উপজেলার শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ অনুমোদনহীন একটি কোম্পানি বই পড়ার জন্য ৬ষ্ঠ-৯ম শ্রেণি পর্যন্ত ৮টি ইংরেজি ও বাংলা ব্যাকরণ বই পড়ানোর জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
যেহেতু স্কুলগুলো শক্ষক সমিতির নিয়ন্ত্রণ করেন সে কারণে বইয়ের গুণগত মান না থাকলেও শিক্ষার্থীরা পড়তে বাধ্য। শিক্ষক সমিতির নির্ধারিত বই যদি স্কুলে পড়ানোর না হলে স্কুলকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে শিক্ষক সমিতিকে।
নেতৃবৃন্দরা আরও জানান, এনসিটিবির অনুমোদনহীন ঢাকার বাংলা বাজারের ফায়াদ বুক ডিপো নামের এই বই কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন সাতক্ষীরার পপুলার লাইব্রেরির মালিক জেলা পুস্তক প্রকাশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ ভুইয়া সাগর।
সদর উপজেলার লাবসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানান, সমিতির নির্ধারন করা বই না চালানোর জন্য ২-৩ বছর আগে আমাকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তুজুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, সমিতির নির্ধারণ করা সব সহায়ক বই নয় তারপরও চালাতে হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি রেজাউল ইসলাম জানান, শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে কোন বই কারও ওপর চাপানো হয়নি। কোনো জরিমানাও করা হয়নি।
আশাশুনি উপজেলা শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া জানান, কিছু বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকারণ বই উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি নীলকণ্ঠ সোম যাচাই বাছাই করে শিক্ষকদের চালানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।
তবে এ ব্যাপারে পপুলার লাইব্রেরির মালিক ও জেলা পুস্তক প্রকাশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ ভুইয়া সাগর জানান, স্বার্থন্বেষী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ধরনের কাজে আমার সম্পৃক্ততা নেই।
জেলা পুস্তক প্রকাশক সমিতির সভাপতি শরিফুল ইসলাম জানান, কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত লোকের জন্য আমাদের পুস্তক প্রকাশক সমিতির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানার জন্য জেলা শিক্ষা অফিসার ফরিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি অবগত রয়েছি। সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। বেসরকারি শিক্ষক সমিতির নেতারা সেখান থেকে ডোনেশন নেয়।
যার ফলে তাদের প্রতিরোধ করা কষ্টকর হচ্ছে। জেলা সমন্বয় মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এদের ঠেকানোর জন্য বিভাগীয় সমন্বয় মিটিংয়েও আলোচনা করা হবে।
আকরামুল ইসলাম/এএম/জেআইএম