মাকে মারধরের ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ


প্রকাশিত: ০২:১৭ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

আমি ওদের বাবার রেখে যাওয়া ছোট্ট কুড়েঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন অনেক রাত। হঠাৎ টেনে তুলে আমাকে কিল, ঘুশি লাথি মারা শুরু করলো ছেলে কামরুল ও বাবু। আবার সেই রাতেই ছোট ছেলে জাহিরুল, নাতি আনারুল ও বউমা ময়না বেগমকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে জানেছি আরেক ছেলে বাবু থানায় মামলা করেছে। সেই মামলায় তাদের ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ।

শনিবার সন্ধ্যায় কান্নাজড়িত কন্ঠে জাগো নিউজকে এসব কথা জানান, সাতক্ষীরার তালা সদরের মাঝিয়াড়া গ্রামের মৃত. মির্জা দুলাল হকের স্ত্রী বৃদ্ধ রাবেয়া বেগম।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতের এঘ টনার পর তালা হাসপাতালে আমাকে ভর্তি করা হয়। ছেলের মারা লাথিতে এখনো বুকে খুব ব্যথা। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে শনিবার সকালে থানায় গিয়েছিলাম ওসির কাছে অভিযোগ জানাতে। ওসি অভিযোগ নিল না। বলে মীমাংসা করে দেবো। এএসআই মোজাফফর বলেছে, মা খারাপ।

রাবেয়া বেগম প্রশ্ন রেখে বলেন, পুলিশ মীমাংসা করে দেবে ভালো কথা। তবে আমার ছেলে, বউমা আর নাতিকে জেলে পাঠালেন কেন? টাকা নিয়ে তাদের জেলে পাঠালেন আর আমারে মারলো তার মামলা নিলেন না।

তিনি আরও বলেন, ওদের বাবা ছোট ছেলে জাহিরুলকে ছোট্ট একটা কুড়ে ঘর মৌখিকভাবে দিয়ে গেছেন। এরপর তিনি মারা যান। এখন অপর ছেলে কামরুল ও বাবু এই ঘর নিতে চাই। আমার জীবন থাকতে এই ঘর আমি কাউরে নিতে দেবো না। ছোট ছেলেই নেবে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোজাফফর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, মা ছেলে কেউ ভালো না। মাকে মারপিটের অভিযোগ মিথ্যা।

তবে তালা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, মাকে মারপিটের ঘটনা শুনেছি। তালা হাসপাতালে ভর্তি ছিল রাবেয়া বেগম। আপোস মীমাংসার জন্য উভয়কে ডাকা হয়েছিল কিন্তু কামরুল ও বাবু হাজির না হওয়ায় সম্ভব হয়নি। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে ছেলে মির্জা জামিরুল ইসলাম বাবুর দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার রাতে মির্জা আজিজুল ইসলামের স্ত্রী ময়না বেগম (৪০) তার ছেলে নবম শ্রেণির ছাত্র আনারুল ইসলাম (১৩) ও ছোট ভাই মির্জা আজিজুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আকরামুল ইসলাম/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।