খাবার পানি সংকটে সাতক্ষীরার উপকূলবাসী
দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের তীরঘেঁষা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা। ১২টি ইউনিয়নের ২১৬টি গ্রামে ৩ লাখ ১৩ হাজার মানুষের বসবাস এ উপজেলায়।
উপজেলা সদরসহ কোথাও নেই সুপেয় খাবার পানি। বিভিন্নভাবে সামান্য পরিমাণ সুপেয় পানির ব্যবস্থা করলেও সেটি চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই সুপেয় খাবার পানি থেকে বঞ্চিত। চারিদিক পানি কিন্তু খাবার পানি নেই। এসব কথা জানিয়ে শ্যামনগর উপজেলা সদরের গাজী আল ইমরান জাগো নিউজকে বলেন, শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নেই সুপেয় খাবার পানির সংকট। পানির জন্য রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয় মানুষের। গ্রামের গৃহবধূদের ৪-৫ কি. মি. পথ পাড়ি দিয়ে খাবার পানি জোগাড় করতে হয়। অনেকে আবার নিরুপায় হয়ে পুকুরের পানি পান করেন।
তিনি আরও জানান, ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলা আঘাত হানার পর শ্যামনগর উপজেলাব্যাপী সৃষ্টি হয় এই দুর্যোগ। গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের এই ভয়াবহতা আরও প্রকট।
সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনগুলো পানি সংকট দূর করতে উদ্যোগ নিলেও সঠিক পরিকল্পনা, সমন্বয়হীনতা ও মনিটরিংয়ের অভাবে তার কোনো সুফল ভুক্তভোগীরা পাইনি।
কপালের দোষ দিয়ে গাবুরা এলাকার মোসলেম উদ্দীনের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বলেন, পানির জন্য আমাদের রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। এ দুর্ভোগ হয়তো সারাজীবন পোহাতে হবে।
এদিকে, উপজেলার যাবপুর গ্রামের স্থানীয় যুবকরা দুটি পুকুর নেট দিয়ে ঘিরে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করায় অন্তত ২০০ পরিবারের পানি সংকট মিটছে।
তবে পানি সংকট অনেকটা দূর হয়েছে জানিয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সায়েদ মো. মঞ্জুরুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, আগের মতো পানির হাহাকার এখন আর নেই। সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আকরামুল ইসলাম/এএম/আরআইপি