ভুট্টায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের


প্রকাশিত: ০৬:২৯ এএম, ১০ মার্চ ২০১৭

দিনাজপুরের বৃহত্তর চিরিরবন্দরে বেশি লাভের আশায় ধান ছেড়ে ভুট্টা আবাদে ঝুকছে চাষিরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাষিরা গত এক মাস ধরে ভুট্টা পরিচর্যায় ব্যাস্ত সময় পার করেছেন।

চাষিরা জানান, ভুট্টা আবাদে খরচ কম, ফলন বেশি। বাজারে দামও ভালো পাওয়া যায়। বোরো ধান আবাদের তুলনায় ভুট্টা আবাদে সেচ ও পরিচর্যা খরচ তুলনামূলক অনেক কম।

সরেজমিনে চিরিরবন্দরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠজুড়ে ভুট্টাক্ষেত। যেসব মাঠ গত বছরও বোরো ধানে পূর্ণ ছিল সেগুলো এবার সবুজ ভুট্টায় ভরে আছে।

সাতনালা গ্রামের কৃষক মো. জাকির হোসেন জানান, জমি চাষ দিয়ে ভুট্টা রোপণ করার পর আর তেমন কাজ নেই। পরে এক বা দু’বার সেচ দিলেই হয়। তাছাড়া ভুট্টার ফলন ও পুষ্টি বেশি। পরিশ্রমও কম। ধানের তুলনায় ভুট্টায় লাভ বেশি এবং ভুট্টার চাহিদাও দেশ-বিদেশে সমানভাবে রয়েছে।

উপজেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ৭শ ৮০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু চাষ হয়েছে ১৮শ ৫০ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় তিন গুন বেশি। এছাড়া ২০১৬ সালে ৫শ ৮০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ করা হয়েছিল। সুতরাং এবছর ১২শ ৭০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ বেড়েছে।

আলোকডিহি ইউনিয়নের গছাহার গ্রামের কৃষক সোহেল রানা জানান, ভুট্টা লাভজনক ফসল। প্রতিবিঘা ভুট্টা আবাদ করতে খরচ হয় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। বিঘায় ফলন হয় ২২-৩০ মণ। আগাম উঠলে প্রতিমণ ভুট্টা ৫০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হবে।

একই ইউনিয়নের বেলাল হোসেন বলেন, তিনি সারা বছরের জন্য গোখাদ্য এবং জ্বালানি পেয়ে যান। মেশিনের মাধ্যমে গাছ থেকে ভুট্টা ছাড়ানোর পর আটিগুলো স্থানীয় চা দোকানদাররা জ্বালানি হিসেবে ক্রয় করেন।

তেতুঁলিয়া গ্রামের কৃষক মো. মকবুল হোসেন জানান, ধানের আবাদ কমিয়ে লাভের আশায় গম ও ভুট্টা চাষ করছেন। চলতি মৌসুমে গমের দাম ভালো পাওয়া গেলে আগামীতেও গম চাষ করবেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ভুট্টা লাভজনক ফসল। চিরিরবন্দর উপজেলায় ধানের পরে ভুট্টার স্থান এ বছর ভুট্টার ফলন অনেক ভালো। তাছাড়া ধানের চেয়ে ভুট্টার সেচ সুবিদা অনেক বেশি। আগামী দিনে চাষিরা আরও বেশি করে ভুট্টার চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

এমদাদুল হক মিলন/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।