সেলাই মেশিনের জন্য দুস্থ নারীকে মাদকসেবী বানালেন চেয়ারম্যান


প্রকাশিত: ০২:১৯ পিএম, ১০ মার্চ ২০১৭

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আত্মসমর্পণকারী মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় একজন বিধবা বৃদ্ধা নারীর নাম দেয়ায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এ ঘটনা এলাকাবাসী জামায়াত নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কেএম কুতুব উদ্দিনকে দায়ী করছেন। এলাকাবাসী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার ঘোষণা দিলে পুলিশি বাধায় তা আর হয়নি।

জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারী দিনাজপুর গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে পুলিশ প্রশাসন ও কমিউনিটি পুলিশিং এর আয়োজনে আইজিপি’র উপস্থিতিতে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে দিনাজপুর জেলায় আত্মসমর্পণকারী ৯৫ জন মাদক ব্যবস্যায়ীকে জীবীকা নির্বাহের জন্য ভ্যান ও সেলাই মেশিন দেয়া হবে মর্মে নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। যার মধ্যে শতগ্রাম ইউনিয়নের বলদিয়াপাড়া আশ্রায়নে বসবাসকারী মৃত আঃ মালেকের স্ত্রী ধার্মিক কুলসুম বেওয়া (৬০) এর নাম ঘোষণা করা হয়।

নাম ঘোষণার আগ পর্যন্ত কুলসুম বেওয়া জানতেন না যে তার নাম মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে দেয়া হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে নাম শুনে সেলাই মেশিন না নিয়েই তিনি চলে আসেন।

পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় জানাজানি হলে, কুলসুম বেওয়ার ছেলে ইব্রাহীম খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের শ্যালক লাল মিয়া দুস্থ নারী হিসেবে ১টি সেলাই মেশিন দেয়ার নাম করে তার মাকে দিনাজপুরে নিয়ে যায়। ধার্মিক বৃদ্ধা কুলসুম বেওয়ার নাম মাদক ব্যবস্যায়ীর লিষ্টে থাকার সংবাদটি এলাকাবাসী জানতে পেরে জামায়াত নেতা ইউপি চেয়ারম্যানের বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর করা ১টি কপি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়।

তাতেও কোনো ফলাফল না পাওয়ায় ৮ মার্চ বুধবার সকাল ১১টায় ঝাড়বাড়ী হাট চান্দিনায়নারী দিবসে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে পুলিশ উপস্থিত হয়ে সুবিচারের আশ্বাস দিয়ে বাধা প্রদান করলে মেষ পর্যন্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত হয়নি।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যন কেএম কুতুব উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমার এলাকার একজন মাদক ব্যবস্যায়ীর নাম পুলিশ প্রশাসন জানতে চাইলে আমি মাদক ব্যবসায়ীর নাম না দিয়ে দুস্থ নারী হিসেবে ওই নামটি দিয়েছি। কীভাবে কুলসুম বেওয়ার নাম মাদক ব্যবসায়ীর লিষ্টে উঠলো তা আমার জানার বাইরে।

তবে বীরগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আবু আক্কাস আলী আত্মসমর্পণকারী মাদক ব্যবসায়ীর যে নামের তালিকা জেলায় পাঠানো হয়েছে তাতে কুলসুম বেওয়ার নাম নেই বলে জানান।

ইউনিয়ন আ.লীগ নেতা মতিয়ার রহমান জানায়, আমাদের চারিদিকে অসংখ্য মাদক সেবী ও ব্যবসায়ী রয়েছে। অথচ তাদের পর্দার আড়াল করে একজন ধার্মিক বৃদ্ধার নাম কি করে এলো তা প্রশাসনের কাছ থেকে জানতে চায় এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য, বীরগঞ্জে আত্মসমর্পণকারী মাদক ব্যবসায়ীদের যে তালিকায় করা হয়েছে ৩ নম্বরে কুলসুম বেওয়ার নাম রয়েছে।

এমদাদুল হক মিলন/এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।