নতুন ধানের দরপতনে হতাশ নওগাঁর কৃষকরা
বোরো ধান তোলার শুরুতেই দরপতনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নওগাঁর কৃষকরা। দু’সপ্তাহ আগে প্রতি মণ ৭৫০ টাকা কেনা হলেও নুতন ধান উঠার পর তা নেমে এসেছে ৪৫০ টাকা থেকে ৫শ টাকা মণ দরে। এজন্য কৃষকরা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে দায়ী করছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা দুষছেন এলসিতে আসা ভারতীয় চাল আমদানিকে।
নওগাঁর মাঠগুলোতে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই। কৃষক এই ধান বিক্রির জন্য জেলার হাটগুলোতে নিয়ে আসছে। দু’সপ্তাহ আগে যে ধান বিক্রি হয়েছে ৭৫০ থেকে ৭২০ টাকা দরে সেখানে নতুন ধান কেনাবেচা হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫শ টাকা মণ দরে।
কৃষকরা বলছেন, ধানের দরপতনের কারণে উৎপাদন খরচও উঠবে না।
জেলার সব চেয়ে বড় ধানের হাট নওগাঁর মহাদেবপুর, মাতাজী, মহিষ বাতান ও রানীনগরের আবাদ পুকুরহাট ঘুরে দেখা গেছে আমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৬২০ টাকা। আর নতুন বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫শ টাকা মণ দরে।
মহাদেবপুর হাটে ধান বিক্রয় করতে আসা উত্তর গ্রামের কৃষক মাহবুব আলম, এনায়েতপুর গ্রামের জফির উদ্দিনসহ অনেকে জানান, প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি ধান মিলছে ১৮ থেতে ২০ মণ। কিন্তু যে দাম পাওয়া যাচ্ছে তাতে খরচের টাকাও তোলা যাবে না ।
কয়েক জন কৃষক ধানের দরপতনের জন্য ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে ধানের দরপতন করে মুনাফা লুটছে। এজন্য বাজার মনিটরিং করার দাবি জানান কৃষকরা।
কোনো প্রকার সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ অস্বীকার করে নওগাঁ জেলা চাউল কল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন তরফদার জানান, এ অভিযোগ সঠিক নয়। বরং চাতাল ব্যবসায়ীরা এখন পথে বসেছে। এখন খারাপ সময় পার করছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।
নওগাঁয় চলতি মৌসুমে ২ লাখ ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আবাদ করা জমি থেকে এবার প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন ধান কৃষকের ঘরে উঠবে বলে আশা করছে জেলা কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সত্যব্রত সাহা জানান, বোরোর ভাল ফলন নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে এখানও কাজ করছে। তবে ধানের দাম নিয়ে তিনিও শঙ্কিত।
এসএস/একে/আরআইপি