বিলীন প্রায় টাঙ্গাইলের নদী-নালা
ড্রেজিং না করানোর কারণে টাঙ্গাইল জেলার নদী-নালা এখন বিলীন প্রায়। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে যেমন ভাঙনে শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, তেমনি বছরের বাকি সময় নদী-নালাগুলো থাকছে পানিশূন্য। ফলে এ জেলার নদী-নালা থেকে কৃষি কাজে সুফল পাচ্ছেন না কৃষকরা।
টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা মো. রফিক বলেন, উল্লেখযোগ্য নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে ধলেশ্বরী, আটিয়া, ঝিনাই, বংশাই, পৌলী, এলেংজানী, লৌহজং ও যমুনার কিছু অংশ।
তিনি বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার ফলে দেশের নদী নালা বিলীন প্রায়। সে উদাসীনতার শিকার টাঙ্গাইলবাসী। ফলে এ জেলায় প্রবাহিত প্রতিটি নদী নালার নব্যতা হারিয়ে যাচ্ছে। অসংখ্য নদী-নালা থাকার পরও সুবিধাবঞ্চিত রয়েছেন টাঙ্গাইলবাসী। জেলার নদী-নালাগুলো ড্রেজিং না হওয়ার ফলে বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ভাঙনের শিকার হচ্ছে জেলার অধিকাংশ উপজেলাবাসী।’
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নদী-নালা ড্রেজিং না হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের শিকার হন এলাকাবাসী। গত কয়েক বছরের সড়াতৈল, নয়াপাড়া এবং কুকুরিয়া হাসনাবাদ পশ্চিম দুইটি এলাকা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। এ ভাঙন রক্ষায় দ্রুত নদী ড্রেজিং প্রয়োজন।’
তবে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হযরত আলী মনি বলেন, নদী-নালা ড্রেজিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ সরকার নিয়ন্ত্রিত। এটি বাস্তবায়ন হয় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে। এ ড্রেজিং প্রকল্পের অধীনে ২০১০-১১ সাল থেকে যমুনার পানি বুড়িগঙ্গায় প্রবাহিত কার্যক্রমের ১৬২দশমিক ৫ কিলোমিটার গতিপথ সৃষ্টির ম্যানুয়াল ড্রেজিংয়ের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই টাঙ্গাইল জেলার পৌলী, বংশাই ও গাজীপুর জেলার তুরাগ নদীপথের ৬৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার ম্যানুয়াল ড্রেজিং কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
এমআরএম/জেডএ/আরআইপি