‘স্বপ্নের মৃত্যুর’ অপেক্ষায় শ্রাবণী
‘স্বপ্নের মৃত্যুর’ অপেক্ষায় ক্ষণ গুণছে শ্রাবণী, আর পরিবারে চলছে শ্রাবণধারা। যেন এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেছে সব। কিন্তু, নিজের অসহায়ত্বের কথা ভাবতেই দু’চোখ দিয়ে শুধু জল গড়িয়ে পড়ে ইদ্রিস আলীর।
শারমিন সুলতানা শ্রাবণী। ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা ইদ্রিস আলী ও গৃহিনী শাহিনুর দম্পতির একমাত্র কন্যা।
২০১৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পায় গোল্ডেন এ প্লাস। তখন থেকে মেয়েকে ঘিরে ভবিষ্যৎ স্বপ্ন বুনতে শুরু করে ইদ্রিস-শাহিনুর দম্পতি। সংসারের আর্থিক অনটনকে অগ্রাহ্য করে লেখাপড়ার খরচ জুগিয়ে যান তারা। কিন্তু, এই দম্পতির সোনালী স্বপ্ন হঠাৎ ফিকে হয়ে গেছে। তাদের স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু শ্রাবণী বর্তমানে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিছানায় শুয়ে ‘মৃত্যুর ক্ষণ’ গুণছে।
ইদ্রিস আলী জানান, শ্রাবণী সমাপনী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার পর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখতো। সেই অনুযায়ী তার পড়ালেখার জন্য সাধ্য মতো খরচও করেন। বর্তমানে সে যশোর শার্শা উপজেলার সাড়াতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। কিন্তু, মাস দেড়েক আগে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যায় শ্রাবণী। তখন স্থানীয় ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে যশোর কুইন্স হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে শ্রাবণীর বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করানো হলে ধরা পড়ে ব্লাড ক্যান্সার। এরপর নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটে। বর্তমানে ইনস্টিটিউটের হেমাটোলোজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মাহাবুবুর রহমানের তত্ত্বাবধায়নে শ্রাবণীর চিকিৎসা চলছে। সে ৩ নম্বর ইউনিটের ১২ নম্বর বেডে রয়েছে।
ইতোমধ্যে বাড়িতে থাকা সহায় সম্বল অধিকাংশ বিক্রি করে সদা হাস্যোজ্জ্বল শ্রাবণীর চিকিৎসার জন্য চার লাখ টাকারও বেশি খরচ করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শ্রাবণীকে বাঁচাতে হলে এখনো ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা দরকার। কিন্তু, তার পক্ষে এতো টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই অসহায় এই দম্পতির স্বপ্ন বাঁচাতে, ফুটফুটে মেয়েটির মুখে আবারও হাসি ফুটাতে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন তিনি।
শাহিনুর, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, নাভারণ শাখা, হিসাব নম্বর ০০১২২০০০০২৫৯৬। বিকাশ নম্বর: ০১৭৪৫২৬৬৬৩৮, যোগাযোগ: ০১৮৪০৯০০৮২৩।
এমএএস/এমএস