ভৈরবে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু


প্রকাশিত: ০৩:৩০ এএম, ২৯ মার্চ ২০১৭

ভৈরবের আগানগরের লুন্দিয়া গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ইব্রাহিম শিকদার নামে একজন চিকিৎসারত অবস্থায় মারা গেছেন। ইব্রাহিম বিবদমান দুই পক্ষের মাঝে শিকদার বাড়ির লোক।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. আবু তাহের মিয়া জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মরহুমের মরদেহ থানায় এসে পৌঁছেছে। আজ বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

এদিকে স্থানীয় লোকজন জানায়,  ইব্রাহিম শিকদারের মৃত্যু সংবাদ মঙ্গলবার বিকেলে এলাকায় পৌঁছলে শিকদার বাড়ির লোকজন প্রতিপক্ষ পাগলা বাড়ির লোকজনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবার হামলা চালায়। এ সময় উভয়পক্ষের মাঝে আবারও সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ জন আহত হয়। হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় ১০ থেকে ১৫টি বাড়ি-ঘর।

পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় সংঘর্ষ থামার পর আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করে তাদের স্বজনরা।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া গ্রামের পাগলা বাড়ির ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে সারোয়ার ও শিকদার বাড়ির আমির মিয়ার ছেলে আক্তারের মাঝে সৌদী আরবের রিয়াদে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সেদেশের পুলিশ সারোয়ারকে গ্রেফতার করে।

এ খবর গ্রামে পৌঁছলে দুই বংশের লোকজন গতকাল এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ওই সংঘর্ষে নারীসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশত লোক আহত হয়। এসময় প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ২০টি বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহতদের উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে ইব্রাহিম শিকদারসহ ১৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও বাজিতপুরের ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় চিকিৎসক।

একদিন পর ইব্রাহিম শিকদার মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার শমরিতা হাসপাতালে মারা যায় বলে জানান তার স্বজনরা।

আসাদুজ্জামান ফরুক/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।