চিকিৎসার জন্য ভারতে যাচ্ছে মৃত্যুর আবেদন করা পরিবারটি
চিকিৎসার জন্য অবশেষে ভারত যাচ্ছেন মেহেরপুরে মৃত্যুর অনুমতি চাওয়া ডুসিনি মাসকুলার ডিসট্রোফি রোগে আক্রান্ত পরিবারটির সদস্যরা। আগামীকাল রোববার ০২ (এপ্রিল) ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তারা।
তোফাজ্জেল হোসেনের দুই ছেলে ও নাতির বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করবে ভারতের মুম্বাইয়ে অবস্থিত নিউরোজেন ব্রেইন অ্যান্ড স্পাইন ইনস্টিটিউট। এখন বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন তারা।
পরিবারটির আত্মহত্যার অনুমতি চাওয়ার খবরটি দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে বিষয়টি।
মেহেরপুর শহরের তোফাজ্জেল হোসেনর চোখে এখন পুরো পরিবারের বাঁচার স্বপ্ন। আগামীকাল ডুসিনি মাসকুলার ডিসট্রোফি রোগে আক্রান্ত তার দুই ছেলে ও নাতিকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য রওনা দেবেন ভারতের মুম্বাইয়ে উদ্দেশ্যে।
সেখানকার নিউরোজেন ব্রেইন অ্যান্ড স্পাইন ইনস্টিটিউট তাদের চিকিৎসার সব ব্যয়ভার বহন করবে। এর আগেও এ রোগে আক্রান্ত প্রায় এক হাজার রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এখন তোফাজ্জেলের চোখে আনন্দের অশ্রু। এ জন্য গণমাধ্যমের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দোয়া চেয়েছেন এই রোগে আক্রান্ত সবুরও। এতোদিন বিছানাই শুয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন তিনি। এখন তিনিও বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। ফিরতে চাচ্ছেন স্বাভাবিক জীবনে।
তোফাজ্জেল হোসেন জানান, ২০০২ সাল থেকে দুরারোগ্যব্যাধি ডুসিনি মাসকুলার ডিসট্রোফি রোগে আক্রান্ত হয় তার বড় ছেলে সবুর।
তার কয়েক বছর পর আক্রান্ত হয় ছোট ছেলে রাইহানুল ইসলাম। সম্প্রতি একই রোগে আক্রান্ত হয় তার নাতি সৌরভ। তাদের চিকিৎসা করতে গিয়ে হারিয়েছে সর্বস্ব।
নিরুপায় হয়ে পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর অনুমতি চেয়ে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন তোফাজ্জেল হোসেন।
এরপর দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশ হয় সংবাদটি। তারপর থেকেই জেলা প্রশাসন ও দেশের বিভিন্ন মানুষ তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছেন। ভারতে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন অলোক কুমার দাস জানান, যদিও এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই। তারপরও ভারতের হাসপাতলটি তাদের সুস্থ করে তুলতে পারবে বলে দাবি করেছে। ভারতে যাওয়ার জন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক খাইরুল হাসান জানান, ইতোমধ্যে পরিবারটিকে বিভিন্নভাবে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদের পাসপোর্ট থেকে শুরু করে ভারতের যাওয়ার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি মাইক্রোবাস দেয়া হচ্ছে। তাদের নিয়ে যাতে দর্শনা পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারে। এছাড়াও ইমিগ্রেশনে কোনো প্রকার ঝামেলা যাতে পোহাতে না হয় সে জন্য চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানিয়ে রাখা হয়েছে।
আসিফ ইকবাল/এএম/পিআর