নেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী তবুও জাতীয়করণের অপেক্ষা


প্রকাশিত: ০৭:৪৪ এএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৭

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সুজনশাহ কাউন্সিল এলাকায় বাঁশের বেড়া আর টিনের ছাউনি দিয়ে মাস খানেক আগে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বসানো রয়েছে ৭/৮ টি বেঞ্চ। এটি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নাম দক্ষিণ ঘোনা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বুধবার সরেজমিনে এ তথ্য জানা গেছে।

সেখানে অবস্থানরত সুজনশাহ এলাকার বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহিদা বেগম দাবি করেন, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এ বিদ্যালয়টি। তবে কতজন শিক্ষার্থী রয়েছে তার কোনো সঠিক হিসেব তার জানা নেই।

শাহিদা বেগম জানান, ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী হতে পারে। তাছাড়া অন্যান্য স্কুলগুলোতে শতভাগ উপবৃত্তি দেয়। বিস্কুট দেয়। এজন্য এখানে শিশুরা ঠিকমত আসে না।

শাহিদা বেগমের সঙ্গে আলাপকালে ঘটনাস্থলে আসা তালা-পাটকেলঘাটা সড়কের ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক সাহাবুদ্দিন বিশ্বাস জানালেন ভিন্ন কথা।

তিনি বলেন, গত ১৫-২০ বছর যাবৎ আমি এ রোডে মোটরসাইকেল চালাই। যেখানে বর্তমানে বিদ্যালয় দাবি করা হচ্ছে এখানে গর্ত ছিল। মাস দুয়েক আগে গর্তটি ভরাট করার পর দেখলাম ঘর তৈরি করছে। এখন শুনছি, এটা নাকি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯২ সালে। আজগুবি কথা!

এসব শোনার পরও শাহিদা বেগম জানান, এ বিদ্যালয়টি অনেক আগেই প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে জাতীয়করণের অপেক্ষায় রয়েছে। এখানে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বপালন করছেন পার্শ্ববর্তী সুজনশাহ নাংলা এলাকার নজরুল খান। সহকারী শিক্ষক হিসেবে রয়েছেন সাহানারা বেগম ও মনতোষ দাশ।

তবে আলাপকালে বিদ্যালয়ে অন্য কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীকে দেখা যায়নি। ঘোনা গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে খায়রুল শেখ বলেন, কিছু দিন আগে স্কুলটি হয়েছে।

এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, তালা উপজেলায় ৯৯টি স্কুল নতুনভাবে জাতীয়করণ হয়েছে। আরও ৮/৯টি স্কুল অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেগুলো জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদন্ত করে দেখছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদ হোসেন জাগো নিউজকে জানান, তালা উপজেলার সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। সরকারি হওয়ার অনুমোদনযোগ্য নয় এমন কোনো বিদ্যালয় অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হবে না।

আকরামুল ইসলাম/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।