মেঘনা রক্ষা বাঁধে ইট-সুরকির বদলে রাবিশ!
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন মেঘনা নদীর তীরবর্তী ভাঙনকবলিত গ্রাম রক্ষায় নির্মিতব্য বাঁধে ইট-সুরকির বদলে ময়লা-রাবিশ ফেলা হচ্ছে। জেলার নবীনগর থানার নাছিরাবাদ এলাকায় রোববার সকালে সরেজমিন ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে, গ্রামবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
তবে গ্রামবাসীর প্রতিরোধ ও ঘটনাটি জানাজানি হলে শ্রমিকরা তাড়াহুড়া করে সেখানে সিমেন্টের স্ল্যাব ফেলে রাবিশের অস্তিত্ব মুছে ফেলার চেষ্টা করেন।
রাবিশ ফেলার কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এ বাঁধ নদীর পানির স্রোতে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই/তিন বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মানিকনগর পুরাতন লঞ্চঘাট থেকে নাছিরাবাদ পূর্বপাড়া পর্যন্ত সিমেন্টের স্ল্যাব ফেলে বাঁধ তৈরির কাজ শুরু হয়। লুনা ট্রেডার্স, আজমীর বিল্ডার্স ও নিয়াজ ট্রেডার্স নামে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাঁধের নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ ও ফেলার ঠিকাদারির কাজ করছে।
নাছিরাবাদ গ্রামের শরীফ আহম্মেদ নামের এক যুবক জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে জানান, সাধারণত নদীপাড়ে সিমেন্টের বড় বড় স্ল্যাব ফেলার আগে প্রথমে ইট-সুরকি ফেলতে হয়। ইট-সুরকি থাকার ফলে নদীতীরের মাটি সরে যেতে পারে না।
তিনি জানান, আজ (রোববার) সকালে নদীর পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় ইট-সুরকির বদলে ময়লার রাবিশ ফেলতে দেখেন। তিনি প্রতিবাদ করলে শ্রমিকরা জানান, ঠিকাদারদের নির্দেশেই তারা কাজ করছেন। সাহসী ওই যুবক তাৎক্ষণিক বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানান।
পরে পিডিবির সার্ভেয়ার ফয়সাল আহম্মেদ ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগের সত্যতা পান। ততক্ষণে শ্রমিকরা ইট-সুরকি ফেলতে শুরু করেন।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেয়ার ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, অভিযোগটি সত্যি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
এমইউ/বিএ/এমএআর/এমএস