আর বুঝি স্কুল যাওয়া হবে না শিমুর


প্রকাশিত: ০৪:০৭ পিএম, ২৫ এপ্রিল ২০১৭

স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আফরুজা আকতার শিমু। সংসারের হাল ও অসুস্থ বাবার ওষুধ কেনার অর্থ যোগাতে এখন সে নিজ এলাকায় ভ্যান চালাচ্ছে। ছোট এই কিশোরী সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যা আয় করে তা দিয়ে চলছে তাদের সংসার।

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার বেলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তো শিমু। প্রায় এক মাস সে আর স্কুলে যাচ্ছে না। সে উপজেলার আব্দুল ইউনিয়নের বেলতলী গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে।

শিমু জানায়, তার বাবা সিরাজুল ইসলাম এক বছর ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে ডান হাত-পা অচল হেয়ে গেছে। ভ্যানচালক বাবার চিকিৎসার টাকা সংগ্রহ ও সংসারের খরচ যোগাতে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে তাকে ও তার মাকে।

তাদের পরিবারে ২ বোন এক ভাই ও বাবা-মাসহ মোট ৫ জন সদস্য। এর মধ্যে বড়ভাই বিয়ে করে আলাদা হয়েছে। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। এখন পবিারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাবাও এক বছর ধরে অসুস্থ।

শিমুর বাবা সিরাজুল ইসলাম জানান, সংসারে আয় করার মতো কেউ নেই, তাই সংসারের খরচ ও চিকিৎসার টাকা যোগাড় করতে বাধ্য হয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে সংসারের হাল ধরেছে সে।

আব্দুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দীন শাহ জানান, আগামী অর্থ বছরে প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় সিরাজুলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বেলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খালেদা রোকেয়া জানান, আফরুজা ছাত্রী হিসেবে মেধাবী. কিন্তু বাবা অসুস্থ হওয়ার পর হতে সে নিয়মিত স্কুলে আসেনা।

এমদাদুল হক মিলন/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।