উত্তরাঞ্চলে ৪৮ ঘণ্টার পণ্য পরিবহন ধর্মঘট চলছে
সড়ক-মহাসড়কে পুলিশি হয়রানি বন্ধ, পরিবহনের বাম্পার, সাইড অ্যাঙ্গেল এবং হুক খোলার সরকারি আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহারসহ সাত দফা দাবিতে রোববার ভোর ৬টা থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় ৪৮ ঘণ্টার পণ্য পরিবহন ধর্মঘট চলছে।
উত্তরবঙ্গ ট্রাক, ট্যাংক লরি, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। পণ্য পরিবহন খাতের এ ধর্মঘটের কারণে পরিবহন সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ধর্মঘটের প্রথমদিন রোববার সকাল থেকেই বগুড়া-ঢাকা ও বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে শত শত পণ্য বোঝাই ট্রাকসহ অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহন আটকে থাকে। সকাল থেকেই ধর্মঘটের সমর্থনে বগুড়ার বিভিন্ন মহাসড়কে অবস্থান নেন মালিক-শ্রমিকরা। মহাসড়কগুলোতে পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল বন্ধ দেখা গেছে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কিছু কিছু পরিবহন চলাচল করলেও শ্রমিকদের বাধার মুখে সেগুলো রাস্তার পাশেই অথবা আন্তঃজেলা ট্রাক টার্মিনালে অবস্থান নেয়।
কয়েকজন ট্রাক চালক অভিযোগ করে বলেন, গাড়ির সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও পুলিশ দীর্ঘদিন ধরেই সড়ক মহাসড়কগুলোতে বেপরোয়া চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা না দিলে মিথ্যা মামলা দিয়ে শ্রমিক-মালিকদের হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ট্রাক মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের শুধু আশ্বাস নয়, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবিতে এ ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ আরও জানান, দাবি আদায় না হলে আসছে রমজানের ঈদের পর লাগাতার ধর্মঘটের কর্মসূচি দেয়া হবে। বগুড়া আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান বলেন, প্রতিটি জেলাতেই ট্রাফিক সার্জেন্ট এবং হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত মাসিক হারে চাঁদা আদায় করে। এজন্য বিশেষ টোকেন আবার কোথাও কোথাও সার্জেন্টরা ডায়েরিতে এসব গাড়ির নাম্বার লিখে রাখেন। তারপরও রাস্তায় কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে হয়রানি বন্ধ হচ্ছে না। এতে করে মালিক শ্রমিক উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য পরিবহন শ্রমিকদের অযথাই হয়রানি করে।
উত্তরবঙ্গ ট্রাক-ট্যাংক লরি-কাভার্ড ভ্যান-পিকআপ মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান আকন্দ জানান, সাত দফা দাবি মেনে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। ১৬ জেলার নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একযোগে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান না করলে রোজার ঈদের পর লাগাতার ধর্র্মঘট কর্মসূচি দেয়া হবে।
লিমন বাসার/আরএআর/আরআইপি