স্বল্প খরচে অধিক ফলনে কৃষকের মুখে হাসি


প্রকাশিত: ০২:২৪ পিএম, ২৮ মে ২০১৭

তৃণমূল পর্যায়ের কৃষিতে দিন দিন বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার। যে কারণে অল্প খরচে স্বল্প সময়ে অধিক ফলন পাচ্ছে কৃষক। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কৃষকেরা ঝুঁকেছে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের ব্যবহারে।

কৃষকরা বাড়ির আঙ্গিনায় করছে ধানের বীজতলা তৈরির কাজ। যার মাধ্যমে সময় ও খরচ দুইটাই কমেছে। কৃষি বিভাগ বলছে প্রযুক্তি ব্যবহারে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হচ্ছে।

শৈলকুপা উপজেলার গোসাইডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মিটুল বলেন, কয়েক বছর আগেও তার ৫ বিঘা জমিতে ধানের বীজতলা দেয়া ও ধান লাগাতে খরচ হতো কয়েক হাজার টাকা। এছাড়া নিজের দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম তো রয়েছেই। গত দুই বছর হলো মেশিনের মাধ্যমে ধানের আবাদ শুরু করি। নিজ বাড়ির উঠানে ৫ বিঘা জমির ধানের বীজতলা তৈরি করেছি। পরিচর্যা করছেন বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা। এতে সময় সাশ্রয়ের সঙ্গে সঙ্গে খরচও হচ্ছে কম।

তিনি আরও জানান, এক বিঘা জমিতে আগে চারজন শ্রমিক লাগতো। কিন্তু বর্তমানে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের ব্যবহারের মাধ্যমে ৪০ থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যেই ধান লাগাতে পারে মাত্র একজন শ্রমিক।

সুবিধা পাওয়ায় তার দেখাদেখি ওই গ্রামের কয়েকজন কৃষক শুরু করেছেন এই পদ্ধতিতে ধানের আবাদ। এছাড়া এই পদ্ধতিতে ধান লাগানোর ফলে ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই খুশি ওই এলাকার কৃষক।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতার মাধ্যমে এই এলাকায় দিন দিন বাড়ছে ধানের ফলন। সেজন্য কৃষকদের সকল প্রকার সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানান সারুটিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মসলেহ উদ্দিন তুহিন।

জানতে চাইলে শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার কুন্ডু বলেন, উপজেলার সারুটিয়া ব্লকে বর্তমানে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের মাধ্যমে ধানের আবাদ করা হচ্ছে। কৃষক নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় বা মাঠে ট্রে ও পলিথিন পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করছেন। ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে চারা লাগানোর উপযোগী হয়ে যায়।

আগে যেখানে এক একর জমিতে চারা রোপণ করতে খরচ হয় ৪ হাজার টাকা। এই মেশিন ব্যবহারে প্রতি একরে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা সাশ্রয় হবে। তাই পরিবেশবান্ধব এই মেশিন ব্যবহারে কৃষকদের পরিশ্রম কম হবে এবং লাভ বেশি হবে। এই মেশিন সরকারের কাছ থেকে কৃষকরা ভর্তুকি মূল্যেও ক্রয় করতে পারবেন।

ভর্তুকির মাধ্যমে রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার মেশিন ব্যবহারে তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হলে ধান চাষে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ এমনটিই মনে করেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।