৮ লাখ টাকা হলেই বাঁচবে সুজন


প্রকাশিত: ০৬:৪৪ এএম, ১৬ জুন ২০১৭

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নুকালী গ্রামের দরিদ্র কৃষক আলতাফ হোসেনের ছেলে কলেজছাত্র সেলিম রেজা সুজন বিরল লামপ্যাথিক (Lymphatic) বা লসিকানালী রোগে আক্রান্ত। তার পায়ের পাতা থেকে কোমর পর্যন্ত রক্তসঞ্চালন বন্ধ হয়ে ভিতরে পচন ধরায় পুরো ডান পা দ্বিগুন ফুলে গেছে। ফলে মাঝে-মাঝেই প্রচণ্ড ব্যাথা ও জ্বর হয়। চলাচল করতে না পারায় বন্ধ হয়ে গেছে কলেজে যাওয়া। গত কয়েক বছর নিজেদের জায়গা জমি বিক্রি করেও দেশে কোনো সুচিকিৎসা হয়নি।

অবশেষে ভারতের এ্যাপোলো হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছে তাকে সুস্থ্য করা সম্ভব। এজন্য ৮ লাখ টাকা লাগবে। যা তার পরিবারের পক্ষে জোটানো সম্ভব নয়। এ অবস্থায় সুস্থ্য জীবনে ফিরে আসতে রোগাক্রান্ত অসহায় সুজন ও তার পরিবারসহ এলাকাবাসী সরকার ও দেশের বিত্তবানদের কাছে সহায়তা চেয়েছে।

পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লামপ্যাথিক রোগে আক্রান্ত শাহজাদপুর সরকারি কলেজে ডিগ্রী ১ম বর্ষে পড়ুয়া সুজন (২২) তার দুই ভাই এক বোনের মধ্যে বড়। হঠাৎ গত ৪ বছর আগে তার ডান পায়ে সামান্য ফুলে ব্যাথা অনুভূত হয়। সাধারণ চিকিৎসা নিয়ে তার কেটে যায় প্রায় আড়াই বছর। এরপর তার পায়ের এই ফোলা সমস্যা পায়ের পাতা থেকে কোমর পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। পা ফুলে দ্বিগুন আকার ধারণ করে। পাশাপাশি দেখা দেয় জ্বর ও প্রচণ্ড ব্যাথা।

হাঁটা চলা করতে না পারায় লেখাপড়ায়ও সৃষ্টি হয় বেঘাত। এ নিয়ে তার পরিবারের সদস্যারাও ছিল চিন্তিত। তাই উপায় না বুঝে নিজেদের একখণ্ড জমি বিক্রি করে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চলে চিকিৎসা। কিন্তু পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে এই রোগ শনাক্ত করতে পারেনি চিকিৎসকরা। আর এভাবেই চলতে থাকে তার যন্ত্রনা ভরা জীবনের চার-চারটি বছর।

পরে মাস খানেক আগে দেশীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে ভারতের এ্যাপোলো হাসপাতালে সুজনকে নিয়ে যাওয়া হলে হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট নিউরোসার্জন ডা. এম বালামুরোগান পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর সুজন লামপ্যাথিক (Lymphatic) বা লসিকানালী রোগে আক্রান্ত বলে জানান।

ডা. এম বালামুরোগান জানায়, তার পুরো ডান পায়ের শিরা-উপশিরা দিয়ে রক্ত সঞ্চলন বন্ধ হয়ে গেছে। এজন্যই পায়ের এ অবস্থা। তাই দ্রুত অপরেশন করতে হবে। এজন্য ৮ লাখ টাকা লাগবে। এরপর সুজন বাড়ি চলে আসলে পরিবারের মাঝে টাকা গচ্ছিত করা নিয়ে হতাশা সৃষ্টি হয়। বাড়ির ছোট্ট ভিটে ছাড়া এমন কিছু নেই যেটা বিক্রি করে তার চিকিৎসা করাবে দরিদ্র পরিবারটি।

আক্রান্ত সেলিম রেজা সুজন জানান, আমার ইচ্ছা লেখাপড়া শেষ করে সরকারি চাকরি করে বাবা মায়ের পাশে দাঁড়ানোর। ছোট-ভাই বোনকে ভালোভাবে লেখাপড়া শেখানো। কিন্তু আমার চিকিৎসার ব্যয় মেটানোর জন্যই আজ আমাদের পরিবারটি শেষ হতে চলেছে। এখন মাঝে-মাঝে জ্বর এসে প্রচণ্ড ব্যাথা করে। অপরেশন করা খুব জরুরি। কিন্তু টাকা পাব কোথায়। আমি কী সুস্থ্য জীবনে ফিরে আসতে পারবো না? কথাগুলো বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন সুজন।

এদিকে সন্তানের এই দুর্দশা তার মা দুলালী খাতুন ও বৃদ্ধা দাদী রহিমা বেগমকে হতাশ করেছে। কোনোভাবেই বিনা চিকিৎসায় হারাতে চান না তাদের আদরের ধনকে। এজন্য তারা দু-হাত তুলে সাহায্য চাইলেন সরকার ও দেশের বিত্তবানদের কাছে।

তারা জানান, খুব কষ্ট করে সুজনকে আমরা লেখা-পড়া করাচ্ছি। এখন অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় যদি ওর কিছু হয় আমাদের পুরো পরিবারটি শেষ হয়ে যাবে। আশা করি আপনারা এগিয়ে আসবেন। বর্তমানে সুজনের পরিবারের অন্য সদস্যরাও আর উপায় খুঁজে পাচ্ছে না। এত টাকা তাদের কোনোভাবেই ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়।

সুজনের বড় চাচা লোকমান হোসেন এবং চাচাতো ভাই আমিরুল ইসলাম জানান, একটি পরিবারের চলার পথ সুগম করতে সুজনকে বাঁচতে হবে। তাই আমরা সরকার ও বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা চাই।

সুজনের চিকিৎসার জন্য ০১৭৫৭-১৭৫৬৫৯ নম্বরে যোগাযোগ অথবা সোনালী ব্যাংক, বাঘাবাড়ি শাখা, সঞ্চয়ী হিসাব নং-৪২০১০০১০০ এ সাহায্য পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেছে তার পরিবার।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।