বোরো ধানের বাম্পার ফলন: ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত কৃষক
ময়মনসিংহ জেলায় বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের ঘরে আনন্দ নেই। বাজারে ধানের দাম খুবই কম। গত মৌসুমে একই সময়ে প্রতি মণ ধানের বাজারদর ছিল সাড়ে ৬শ টাকা থেকে ৭শ টাকা। এ বছর বোরো উৎপাদন মৌসুমে ৫শ টাকা আবার কোনো কোনো বাজারে ৬শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। যাতে এক মণ ধান উৎপাদন করতে কৃষকদের যে খরচ হয় তা থেকে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কম পাচ্ছেন তারা।
ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আলতাবুর রহমান তার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জাগো নিউজকে জানান, বর্তমান বোরো মৌসুমে ময়মনসিংহ জেলায় হাইব্রিড, উচ্চ ফলনশীল ও স্থানীয় জাতসহ মোট ২ লাখ ৬৩ হাজার হেক্টরে বোরো উৎপাদিত হয়। আর এবারে উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ছিল ১০ লাখ ৩১ হাজার মেট্রেক টন চাল। যা লক্ষ্যমাত্র ছাড়িয়ে বেশি ধান উৎপন্ন হবে। গত বোরো মৌসুমে জেলার ১৩টি উপজেলায় ২ লাখ ৬১ হাজার হেক্টরে বোরো ধান আবাদ হয়েছিল। আর চাল উৎপাদন হয় ১০ লাখ ৭৮ হাজার ২০৫ টন চাল।
এবারে বোরো মৌসুমে প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না থাকা, সারে দাম কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় জেলায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে কৃষক ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। এক হিসেবে জানা গেছে, প্রতি মণ ধান ফলাতে ও ঘরে তোলা পর্যন্ত খরচ পড়ে ৭শ টাকা থেকে সাড়ে ৭শ টাকা। আর বর্তমানে জেলার বাজারগুলোতে সাড়ে ৪শ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬শ টাকায় ধান বিক্রি হচ্ছে।
সরকারিভাবে এ বছর ধানের ক্রয় মূল্য ধরা হয়েছে ৮৮০ টাকা। তবে এখনও সরকারিভাবে ধান ক্রয় শুরু হয়নি। আর এতে সাধারণ কৃষকরা সরাসরি ধান বিক্রি করতে পারেন না। তার কারণ কৃষকরা ধান ভালমতো শুকাতে পারেন না। কৃষকের ধানে ময়েশ্চার থাকে ১৭% থেকে ২২% পর্যন্ত। আরসকারী গুদামে ধানে ১৪% পর্যন্ত ময়েশ্চার থাকে। এত কৃষক লাভবান না হয়ে লাভবান হন ধান কল মালিকরা বা যাদের চাতালে ধান শুকানোর ভাল ব্যবস্থা আছে।
এদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ধান বাজারগুলোতে খবর নিয়ে জানা যায়, গত দু`দিন ধানের বাজার কিছুটা বাড়লেও তাতেও কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আতাউল খোকন/এমজেড/আরআইপি