চাঁদা না পেয়ে আবাসন ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ
রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল রেলস্টেশন সংলগ্ন নির্মাণাধীন ‘রাজশাহী টাওয়ার’ প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে চাঁদা দাবি এবং প্রকল্পের এক উদ্যোক্তাকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে অভিযুক্ত এনাজুল হক অমি দলবল নিয়ে এ ঘটনা ঘটান বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পক্ষ বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০০ জন সদস্যের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই প্রকল্পের পাশেই অভিযুক্ত অমির মালিকানাধীন ‘হকস ইন’ নামক একটি আবাসিক হোটেল অবস্থিত। অভিযোগ অনুযায়ী, ভবন নির্মাণের শুরু থেকেই হোটেলের ক্ষয়ক্ষতির অজুহাত দেখিয়ে অমি ২৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। যদিও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) পরিদর্শন করে কোনো ক্ষতির চিহ্ন পায়নি, তবুও কাজ সচল রাখতে তাকে বিভিন্ন ধাপে ইতোমধ্যে ১৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা দাবি করেছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বুধবার ভবনের ঢালাই কাজ চলাকালে অমি ও তার দলবল নির্মাণস্থলে প্রবেশ করে কাজ বন্ধ করে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অমি প্রকল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা মোস্তাফিজুর রহমান তুহিনকে গালিগালাজ করেন এবং বাকি টাকার জন্য জোরপূর্বক অপহরণের চেষ্টা চালান। উপস্থিত শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের বাধায় তুহিন রক্ষা পান।

ভুক্তভোগী আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, চাঁদার টাকা না পেয়ে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে আমাকে অপহরণেরও চেষ্টা করা হয়।
তবে চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার না করে অভিযুক্ত এনাজুল হক অমি বলেন, আমার হোটেলের পাশে তারা ভবন নির্মাণ করায় আমার ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা আমাকে ২৬ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল। কয়েক দফায় ১৪ লাখ টাকা দিয়েছে। আমি আরও ১১ লাখ টাকা পাব। আমার পাওনা টাকা না দেওয়া পর্যন্ত এই কাজ বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মনির হোসেন মাহিন/কেএইচকে/জেআইএম