ফাঁকা হয়ে এসেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক


প্রকাশিত: ১০:১৪ এএম, ২৫ জুন ২০১৭

ফাঁকা হয়ে এসেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে শনিবার রাত পর্যন্ত বিরামহীন ভাবে চলাচল করে যানবাহন। রোববার সকাল থেকে চলমান ওই চাপ কমে প্রায় যানবাহন শূন্য হয়ে পড়েছে মহাসড়ক। রাতের মধ্যে মহাসড়ক একদম ফাঁকা হয়ে উঠবে বলে মনে করছে পুলিশ বিভাগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, রোববার সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ মহাসড়কে যানজটের তেমন কোনো চিত্র ছিল না বললেই চলে। যানবাহনের চাপ একদম নেই বললেই চলে। অল্প সংখ্যক কিছু যানবাহন থাকলেও যানবাহনগুলো চলাচল করছে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে। মহাসড়কে যানজট না থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চালক ও ঘরমুখো মানুষ।

এছাড়াও গত এক সপ্তাহে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, রাবনা বাইপাস, আশেকপুর বাইপাস, করটিয়া ও তারটিয়ায় পর্যবেক্ষণে দেখা যায় স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করছে। এমনকি ৬৫ কিলোমিটারের মধ্যে যানজটের তেমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে গাড়ির চাপের কারণে কখনো কখনো যান চলাচলে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।

বিভিন্ন স্থানে যানবাহন থেমে থাকলেও পুলিশের তৎপরতায় তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। আবার অনেক সময় মহাসড়কগুলো ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। তবে বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায়ে ধীরগতি এবং মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতার জন্য দীর্ঘ যানজট হয়নি।

জানা যায়, মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের ৬৫ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় আট শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। ৪৫টি মোটরসাইকেল মোবাইল পেট্রল ও ৪৫টি পিকেট টিম মোতায়েন করা হয়। ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে তারা তিন শিফটে যানজট নিরসনে কাজ করেন। ৬৫ কিলোমিটার মহাসড়ক ছয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি সেক্টরে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, একজন সহকারী পুলিশ সুপার নেতৃত্ব দেন।

Tangail

এর বাইরে পর্যাপ্ত ট্রাফিক সার্জন এবং টিআই দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১০টি পয়েন্টে আইপি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এই ক্যামেরাগুলো পুলিশ সুপার পর্যবেক্ষণ করছেন।

পুলিশের জোরালো পদক্ষেপে সপ্তাহ জুড়ে মহাসড়কে যানজট হয়নি। বাস চালক, ঘরমুখো যাত্রীসহ স্থানীয়রা পুলিশ প্রশাসনের দ্বায়িত্বের প্রশংসা করছেন। তার বলছেন পুলিশ ইচ্ছে করলে অনেক কিছুই করতে পারে তার প্রমাণ মিললো উত্তরের পথের যানজট নিরসনের মধ্য দিয়ে। পুলিশের বেশিরভাগ কাজই সমালোচনায় আসে নেগেটিভ হয়ে। তবে যানজট নিরসনে পুলিশের দায়িত্ববোধ সব শ্রেণির মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এস আই) শাহ আলম বলেন, যানজট নিরসনে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা ছিল। পুলিশ ২৪ ঘণ্টাই নিরলসভাবে কাজ করেছে।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মাহবুব আলম বলেন, যানজটের সম্ভাবনা কেটে গেছে। মহাসড়ক হয়ে গেছে এখন প্রায় ফাঁকা। গত কয়েকদিন মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়নি। পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা আর নিরলস পরিশ্রমেই যানজট নিরসন সম্ভব হয়েছে। ঈদের ছুটি শেষেও জেলা পুলিশ প্রশাসন যানজট নিরসনে এমন তৎপরতা অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান তিনি।

আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।