খেজুর খাওয়ানোর কথা বলে মাঠে নিয়ে সন্তানকে হত্যা


প্রকাশিত: ০৩:০৭ পিএম, ০৬ জুলাই ২০১৭

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সৎ পিতার শারীরিক নির্যাতনে নিহত শিশু ইসরাইল হত্যার বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে অঝোরে কাঁদলেন মা আফরোজা খাতুন ময়না।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি জানান, ইসরাইল মামার বাড়িতেই থাকতো। ঈদে ওকে আমি দ্বিতীয় স্বামী ফারুকের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে নিলে আমার ছেলে খুন হবে, সেটা তো জানতাম না। ছেলেকে খেজুর খাওয়ানোর কথা বলে মাঠে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে আমার স্বামী ফারুক। ছেলের এমন করুণ মৃত্যুর দৃশ্য কোনো মা কল্পনাও করতে পারে না। আমি ওর ফাঁসি চাই। ছেলে হত্যার বিচার চাই।

বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে শিশু ইসরাইলের মা যশোর সদর উপজেলার বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের মৃত শহর আলীর মেয়ে আফরোজা খাতুন ময়না এসব কথা বলেন।

আফরোজা খাতুন ময়না লিখিত বক্তব্যে বলেন, ১৩-১৪ বছর আগে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খালিয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাগরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর তাদের সংসারে ইসরাইলের জন্ম হয়। প্রায় ৬ বছর আগে সাগরের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়েছে। এরপর কালীগঞ্জ উপজেলার বড়তালিয়ান গ্রামের মৃত মোমিন মোল্লার ছেলে ফারুক মোল্লার সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। ইসরাইল তার নানা বাড়িতে থাকতো।

গত ১ জুলাই বেড়াতে এসে ইসরাইলকে দ্বিতীয় স্বামী ফারুকের বাড়িতে নিয়ে যান ময়না। ২ জুলাই দুপুরে খাবারের পর স্বামী ফারুক মোল্লা শিশুপুত্র ইসরাইলকে মাঠে খেজুর খাওয়ার কথা বলে ২/৩ কিলোমিটার দূরে মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে একটি পাটক্ষেতে শারীরিক নির্যাতন ও শ্বাসরোধে হত্যা করে।

বুধবার ঝিনাইদহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় ফারুক মোল্লা মিথ্যা জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমার নামে দুই বিঘা জমি ও শিশু ইসরাইলের ব্যাংকে দেড় লাখ টাকা রাখার দাবি করেছেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ময়না সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমি ফারুক মোল্লার ফাঁসি চাই। আমার ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইসরাইলের মামা শামিনুর ইসলাম, মিজানুর রহমান, শাহীনুর ইসলাম, মামী রোখসানা খাতুন প্রমুখ।

মিলন রহমান/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।