মালয়েশিয়ায় ভবন থেকে পড়ে মণিরামপুরের যুবকের মৃত্যু
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে পাঁচতলা ভবন থেকে পড়ে নিহত যশোরের মণিরামপুরের যুবক হাসেম আলীর (৩৫) বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
বৃহস্পতিবার কুয়ালামপুরের একটি বহুতল ভবনে পানির লাইনে কাজ করতে গিয়ে তিনি পাঁচতলা থেকে পড়ে যান। তিনি মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের জামলা গ্রামের মৃত খোরশেদ সরদারের ছেলে।
মালয়েশিয়ার কেলানে কর্মরত মণিরামপুরের কাশিপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কুয়ালালামপুরের কাছে কেলান সেন্টারে একটি বিল্ডিংয়ের পাঁচতলায় পানির লাইনে কাজ করতে ওঠেন হাসেম। অসাবধানতাবশত সেখান থেকে নিচে পড়ে মারা যান তিনি।
হাসেম ওই দেশে অবৈধ অভিবাসী ছিলেন। তার লাশ মণিরামপুরে নিজ বাড়িতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান মোস্তাফিজুর।
মণিরামপুরের শ্যামকুড় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি জানান, হাসেমের লাশ দেশে আনার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে তার স্বজনদের প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন।
নিহতের ভাইপো মণিরামপুর উপজেলা যুবদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান মিন্টু জানান, হাসেমের চার বছর বসয়ী কাজল নামে একটি মেয়ে ও আড়াই বছর বয়সী তামিম নামে একটি ছেলে রয়েছে। তার পরিবারে আরও রয়েছেন বৃদ্ধা মা করিমন (৭০) ও স্ত্রী রিজিয়া (২৫)। এরা সবাই হাসেমের আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক হাসেমের মা বৃদ্ধা করিমন। স্বামীর মৃত্যুর খবরে দিশেহারা স্ত্রী রিজিয়াও। স্বামীর ধার করা আড়াই লাখ টাকা ও ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি কী করবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ভালোভাবে বাঁচার আশায় তিন বছর আগে যশোর সদরের কুয়াদা সিরাজসিঙ্গা গ্রামের আদম ব্যবসায়ী শফিয়ারের প্রলোভনে পড়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাড়ি দেন হাসেম। আড়াই লাখ টাকা ধারদেনা করে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন তিনি। যা শোধ করার আগেই তিনি চলে গেলেন দুনিয়া ছেড়ে।
মিলন রহমান/এমএএস/পিআর