চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯০ পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ৭টি গ্রামের বেশ কিছু বাড়ি, কয়েকশ একর ফসলি জমি গত এক সপ্তাহে পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।
এর মধ্যে রোডপাড়া গ্রামটি গত তিন বছরে সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি, জমিজায়গাসহ সব হারিয়েছে ওই গ্রামের ৯০টি পরিবার।
সেই সঙ্গে চরম হুমকিতে রয়েছে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়লডুবি, চাকপাড়া, মালবাগডাঙ্গা, ফাটাপড়া, সোনাপট্টি, কাইড়াপাড়া ও রোড পাড়া গ্রাম। ওই ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদরাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গত তিন বছরে রোড পাড়া গ্রামের প্রায় ৯০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ওই গ্রামে এবছর ৭টি বাড়ি ছিল তাও গত এক সপ্তাহে ভাঙনের কবলে পড়ে।
-20170716193319.jpg)
রোডপাড়া গ্রামের সেরাজুল ইসলাম জানান, গত দুই সপ্তাহে ৭টি বাড়ি নদীতে নেমে যাওয়ায় তারা এখন ফাটাপাড়া গ্রামে অন্যের জায়গায় ঘর তুলে বসবাস করছে। নিজেদের জমি হারিয়ে এখন নিঃস্ব তারা।
চাকপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম জানান, এবছর তার প্রায় ৩০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিনই নদী ভাঙছে। পানি কমলে ভাঙন আরও তীব্র হবে। এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ৭টি গ্রামের অধিকাংশ এলাকাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য এবং রোডপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, ১৯৯৬ সালে পদ্মা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে বাখের আলী এলাকা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে রোডপাড়ায় বসতি গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু গত তিন বছরে তীব্র ভাঙনে আবারও রোডপাড়া গ্রামটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে আবারও অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে তাদের।
চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিদ রানা টিপু বলেন, মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন কমপ্লেক্স, একটি মাদরাসা, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এ ইউনিয়নের ৭টি গ্রাম হুমকিতে রয়েছে। এখনই ব্যবস্থা নিতে না পারলে এলাকাবাসীর আরও ব্যাপক ক্ষতি হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ শাহিদুল আলম জানান, ২০১৫ সাল থেকে বিশেষ করে গত দুই বছরে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি, আম বাগানসহ অন্যান্য গাছপালা, কৃষি জমি বিলীন হয়েছে পদ্মায়। প্রায় ৫শ মিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে নদী। ২ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী তীর সংরক্ষণের জন্য ১০৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডে প্রেরণ করা হয়েছে। এ অর্থ বছরেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
মোহা. আব্দুল্লাহ/এএম/জেআইএম