পদত্যাগ করেননি চাকরিজীবী সেই ছাত্রলীগ সভাপতি
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বিবাহিত ও চাকরিজীবীদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও পদত্যাগ করেননি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আবু বক্কর শিকদার।
তিনি উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। সেই সঙ্গে তার জাতীয় পরিচয়পত্র (৯৩০২৮২০৪৯৪৭১); জন্ম তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৭ উল্লেখ রয়েছে। ছাত্রলীগের সংবিধানে ২৯ বছর পার হলে কোনো নেতা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থাকতে পারবে না উল্লেখ রয়েছে।
গত ১৯ জানুয়ারি মির্জাপুর পৌর ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়। সম্মেলনে সভাপতি পদে পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শরীফুল ইসলাম একক প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখেন।
সম্মেলনের তিনদিন আগে হঠাৎ আবু বক্কর শিকদার সভাপতি প্রার্থী হন। ওই সময় আবু বক্করের বয়স ৩১ বছর পার হলেও এবং তিনি চাকরিরত থাকলেও যোগ্য ও ত্যাগী ছাত্রলীগ নেতা পৌর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ও বর্তমানে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলামকে বাদ দিয়ে আবু বক্করকে সভাপতি করা হয়। বর্তমানে আবু বক্কর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ‘উদ্যোক্তা’ (ইউডিবি) হিসেবে চুক্তিভিত্তিক কাজ করছেন।
এর আগে কেন্দ্র থেকে দেয়া বিবাহিত ও চাকরিজীবীদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের জন্য বেঁধে দেয়া ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম পার হয়ে আরও ৮৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও কেন্দ্রের আহ্বানে সাড়া দেননি আবু বক্কর শিকদার।
মির্জাপুর পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আবু বক্কর শিকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ভাতগ্রাম ইউপিতে চুক্তিভিত্তিক ‘উদ্যোক্তা’ হিসেবে কাজ করছি। এটি আমার স্থায়ী চাকরি নয়, এজন্য পদত্যাগ করিনি।
ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আবু বক্কর শিকদার ভাতগ্রাম ইউপিতে চুক্তিভিত্তিক ‘উদ্যোক্তা’ হিসেবে কাজ করছেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, মির্জাপুর পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আবু বক্কর শিকদার ইউনিয়ন পরিষদে কাজ করেন এ রকম তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এস এম এরশাদ/এএম/আরআইপি